২০০৬ সালের ১৬ জুন, মেসি হয়ত কখনোই ভুলতে পারবেন না সেই দিনটির কথা। ২০১৮ সালের ১৬ জুন, দিনটি মেসি পারলে ভুলে যেতে চাইবেন যেকোনো মূল্যে। পারবেন কিনা সময়ই বলবে। তবে পেনাল্টির সুযোগ হাতছাড়া করে মেসি এদিন যে ব্যর্থতা বয়ে এনেছেন, সেটির জন্য আর্জেন্টিনাকে চড়া মূল্য দিতে না হলেই হয়।
শনিবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। তাতে পয়েন্ট হারিয়ে শুরু করতে হল, যার দায় বেশিরভাগটাই বর্তাচ্ছে মেসির উপর। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক যে পেনাল্টি শট জড়িয়ে দিতে পারেননি জালে।
তার আগে জেনে নেয়া যাক ২০০৬ সালের ১৬ জুন কি ঘটেছিল। জার্মানিতে বিশ্বকাপ খেলতে গেছে তারকা ঠাসা আর্জেন্টিনা। ক্রেসপো, তেভেজ, রিকুয়েলমে। আলো কাড়ার লোকের অভাব নেই। কিন্তু সেইদিন সার্বিয়া এন্ড মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে মাঠে নেমে ১২ মিনিটের মাথাতেই আলো কেড়ে নিলেন ১৮ বছরের এক তরুণ। নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি।
ম্যাচে ৬-০তে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল। করেছিলেন একটি গোল। ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ৮৮ মিনিটে জাল খুঁজে নেন, তেভেজের পাসে বল পেয়ে। আলবিসেলেস্তেদের বড় জয়ে ষষ্ঠ গোলটি ছিল তার। নেমেই অবশ্য ক্রেসপোকে দিয়ে আরেটি গোল করিয়েছিলেন।
তখন ১৯ নম্বর জার্সিতে খেলতেন মেসি। রিকুয়েলমে ১০ নম্বর জার্সি পরতেন। সেই গোলটি বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে বলেই দিনটি স্মরণীয় মেসির জন্য। ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়স ছিল। আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক। আর তখনকার আন্তর্জাতিক ইতিহাসের ষষ্ঠ কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিত্ব ছুঁয়েছিলেন।
আর ২০১৮ সালের ১৬ জুন? সমতা নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে জাল খুঁজে পেতে মরিয়া আর্জেন্টিনা। সুযোগটা এলো ৬২তম মিনিটে। মেসিকে বক্সে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি উপহার দেয় আইসল্যান্ড। পরে সেটি আর জালে জড়াতে পারেননি মেসি। বাঁ-দিকে শট নিয়েছিলেন, ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন আইসল্যান্ড গোলরক্ষক। পরে আর গোল করতে না পারায় সেটিই আর্জেন্টিনার পয়েন্ট হারানোর বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।










