চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

মিছিলের উপরে স্বৈরাচারের ট্রাকের চাপায় নিহত ছাত্রলীগ নেতাদের স্মরণ

শফী আহমেদশফী আহমেদ
৯:২৯ পূর্বাহ্ণ ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০১৮
মতামত
A A
স্বৈরাচার

১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি এক সশত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদারদের পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রের সাংবাধানিক ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ ফিরে যায় পাকিস্তানী ধারায়। বাংলাদেশের উপর চেপে বসে সামরিক শাসনের জগদ্দল পাথর। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে জেনারের হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ। সামরিক শাসন তথা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শুরু হয় ছাত্র জনতার দূর্বার প্রতিরোধ।

২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালের এই দিনটি ছিল এ দেশের ছাত্রসমাজের জন্য এক দুঃখজনক অধ্যায়। সেদিনও ফাগুনে আগুন ঝরেছিল। কেন জানি না বসন্তের আবহাওয়া ছিল সেদিন গুমোট বাধা। আকাশে মেঘ জমেনি। কুয়াশাও ছিল না। বসন্তের স্নিগ্ধতাও ছিল না। দিনের শুরুতেই মনে হয়েছিল আজ কিছু একটা অকল্যাণ হবে। তখন দেশে ছিল সামরিক শাসন। বিকালে ছিল ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের মিছিলের কর্মসূচি। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ আহুত ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে কর্মসূচি পালনের প্রথা অনুযায়ী প্রত্যেক হল থেকে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সব ছাত্র-সংগঠনের পৃথক পৃথক মিছিল বিকাল ৪টার মধ্যে মধুর ক্যান্টিন এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক সমবেত হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মধুর ক্যান্টিনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন, সমাবেশকে উজ্জীবিত করেন। অতঃপর মূল মিছিল শুরু হয়।

সেদিনের কথা মনে হলে আজও আমার গা শিউরে ওঠে। সেদিন কেন জানি আমার মিছিলে যেতে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা, মিছিলে না গেলে কী হয়! আমি আমার কয়েকজন বন্ধুকে আমার মনের অবস্থা খুলে বলেছিলাম। কিন্তু তারাও আমাকে অনুরোধ করল- যা হয় হবে, মিছিলে থাক। ডান-বাম খেয়াল রাখ। মধুর ক্যান্টিনের পাশেই ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের মাঠে আমাদের জমায়েত ছিল, সেই জমায়েতে কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য বক্তব্য দিলাম- যে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করতে হবে। তারপর খণ্ড খণ্ড মিছিল মধুর ক্যান্টিনের সামনে সমবেত হলো। নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখলেন। কর্মীদের আরও চাঙ্গা করার জন্য কবি মোহন রায়হান আবৃত্তি করলেন এক বিপ্লবী কবিতা- ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য আজ কোনো পরিতাপ নেই, আমাদের জন্মের জন্য আজ কোনো ভালোবাসা নেই, আমাদের ধ্বংসের জন্য আজ কোনো প্রতিকার নেই, আমাদের সবকিছু আজ শুধু ছলনার, ব্যর্থতার ক্লেদ নিয়ে আসে। আজকে এখানে একজন শিক্ষক জন্মাক, আজকে এখানে একজন বুদ্ধিজীবী থাক, আজ নবজন্ম হোক এ দেশের লেখক-কবির আর তারা অন্ধকারে ঝলসিত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো হোক স্পর্ধিত; স্পর্ধিত হোক আজ তারা স্পর্ধিত হোক।’

মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে দিয়ে রোকেয়া হল পেরিয়ে টিএসসি হয়ে, কার্জন হলের দিকে এগোতে থাকে। মিছিলের সামনে ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের নেতা, ডাকসু ভিপি আক্তারুজ্জামান, খন্দকার মোহাম্মদ ফারুক, মুনির উদ্দীন আহমেদ, ফজলে হোসেন বাদশা, আনোয়ারুল হক, আবদুল মান্নান, শিরীন আখতার, মোস্তাক হোসেন, মুকুল বোস, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ প্রমুখ।

মিছিলটি কার্জন হল পার হয়ে ফুলবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হয়। দাঙ্গা পুলিশ মিছিলের সামনে ও পেছনে অবস্থান নেয়। এ যেন মিছিল নয়, পুলিশি ঘেরাওয়ের মধ্যে জেলখানা। তার পেছনেই ছিল পুলিশের পুলিশবিহীন ট্রাক। আমরা ঠিক আন্দাজ করতে পারিনি কী ঘটতে যাচ্ছে আমাদের ভাগ্যে! মিছিল এগিয়ে যাচ্ছে, আকস্মিক পুলিশের পুলিশবিহীন ট্রাকটি মিছিলের মধ্যে উঠিয়ে দেওয়া হলো খুনি জান্তার নির্দেশে। ঘটনাস্থলে শহীদ হলেন ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহীম সেলিম ও দেলোয়ার হোসেন। চিরদিনের মতো পঙ্গু হয়ে গেল আমাদের সাথী বাসদ ছাত্রলীগের নেতা আব্দুস সাত্তার খান, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবীব সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্র-কর্মী। সে এক নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ! সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র অর্জনের লড়াইয়ের এক রক্তাক্ত অধ্যায়।

মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করল, নির্বিচারে লাঠিচার্জ করল, কে নেতা কে কর্মী সেই লাঠিচার্জে কোনো বাছ-বিচার ছিল না। ইব্রাহীম সেলিম ও দেলোয়ারের লাশ পুলিশ ছিনিয়ে নিয়ে গেল ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। তারপরের ইতিহাস আরও নিষ্ঠুর-নির্মম। সেই লাশগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ পাহারায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো এবং দাফন করা হলো। আজ সেলিম-দেলোয়ারের শহীদ হওয়ার দিনে তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সেলিম-দেলোয়ারের আত্মদান সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

Reneta

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর থেকে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমাদের হারাতে হয়েছে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীকে। সেলিম দেলোয়ারসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছে অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রে।

তবুও গণতান্ত্রিক ধারা এগিয়ে চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা। আমরা আশা করি সংবিধানের ভিত্তিতে, কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাত-শিবির চক্র ছাড়া, সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটি সুষ্ঠ অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারায় জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আবারো জনগণের সেবার সুযোগ পাবে।

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে বিগত বছরগুলোতে মৌলবাদী জঙ্গিরা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। কিন্তু জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নিতি জঙ্গিদের অস্তিত্ব অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। গত ছয় মাস যাবৎ অনাকাংখীতভাবে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা। মানবতার তাগিদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু তাদের প্রত্যাবসনের কার্যকর কোন সমাধান এখনো তৈরী হয় নাই।
বর্তমান সরকারের আমলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের দিক থেকে সুনজর দিতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিচুক্তি অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেবার কথা ছিল তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবার জন্য যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলিকে আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে।

স্বৈরাচারী এরশাদ আজ নিজেকে গণতন্ত্রি প্রমাণ করতে মাঝে মাঝে পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত অবৈধ ক্ষমতা দখল করে যে নিপীড়ন নির্যাতন তিনি চালিয়েছেন এর থেকে মুক্ত হবার জন্য কোন পথ খোলা নাই। সেলিম-দেলোয়ারকে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট করে হত্যা করেছেন এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না। সেলিম-দেলোয়ারসহ হাজারো শহীদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্রের পতাকা এগিয়ে যাবেই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যাতে কোন অবস্থাতেই ব্যাহত না হয় সেদিকে আমাদের সকলের সজাগ থাকতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই হোক আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য। আজকের এই দিনে সেলিম-দেলোয়ারের আত্মদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: স্বৈরাচার
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ইতালির ফুটবল পথে ফেরাতে মালদিনির পছন্দের তালিকায় গার্দিওলা

জুলাই ১৩, ২০২৬

লাল-হলুদ কার্ডের কাহিনীতে জড়িয়ে আন্তোনিও রাতিন, ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতার শুরু যেখানে

জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে ঢাবির টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সহযোগিতা চুক্তি

জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতি ও জনপদের এক অনন্য দলিল ‘চ্যানেল আই অনলাইন’

জুলাই ১৩, ২০২৬

আসমা আল-আসাদ: লন্ডন থেকে সিরিয়ার রক্তাক্ত রাজনীতি ও ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে

জুলাই ১৩, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT