প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের পরে স্টিফেন হকিংকে সেরা পদার্থবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্যের তাত্ত্বিক ব্যাখায় কৃষ্ণবিবর ও বিকিরণতত্ত্বের ব্যাখা দিয়ে স্টিফেন হকিং বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর স্থান দখল করে আছেন।
আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং বোর-হাইজেনবার্গের কোয়ান্টামতত্ত্বকে মিলিয়ে দেওয়াকে হকিংয়ের অন্যতম সেরা কাজ বলা হয়ে থাকে।
আপেক্ষিকতার তত্ত্ব কাজ করে মহাজগতের অতিকায় বস্তু নিয়ে, আর কোয়ান্টাম তত্ত্বের কাজ হচ্ছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জগতকে নিয়ে। হকিং কৃষ্ণবিবরের ঘটনা দিগন্তের ঠিক বাইরে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্বের প্রয়োগ করলেন। অনিশ্চয়তা তত্ত্ব আবার কোনো শূন্যস্থানে বিশ্বাস করে না। এই তত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ হয় যে, মহাশূন্যের কোনোটাই শূন্য নয়। সেখানে সব সময় কণা-প্রতিকণার তৈরি হচ্ছে আর সেগুলো প্রতিমুহূর্তে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে বিলীন হচ্ছে।
হকিং তার তত্ত্বের মাধ্যমে দেখালেন, ‘ইভেন্ট হরাইজন’ বা ঘটনা দিগন্তে কৃষ্ণবিবরের আকর্ষণে এ রকম জোড়া কণার কোনো কোনোটি আটকা পড়ে যেতে পারে। তখন তার সঙ্গী জোড়াটি আর বিমূর্ত থাকে না অর্থাৎ সে মূর্ত হয়ে ওঠে। আর এই মূর্ত হওয়ার ভরটি সে কৃষ্ণবিবর থেকে সংগ্রহ করে নেয়। এর অর্থ দাঁড়ায়, কৃষ্ণবিবর আর কৃষ্ণ থাকছে না। অনবরত সেখান থেকে বের হয়ে আসছে কণা স্রোত। হকিংয়ের নামানুসারে এই কণাস্রোতের নাম দেওয়া হয়েছে হকিং বিকিরণ।
১৯৮৮ সালে ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইয়ের কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। বইটিতে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে তত্ত্ব দেন। আন্তর্জাতিকভাবে বেস্ট সেলার হিসেবে বইটির কয়েক কোটি কপি বিক্রি হয়। মহাবিশ্ব নিয়ে প্রকাশিত তাঁর সর্বশেষ বই ‘দ্য গ্র্যান্ড ডিজাইন’।
আইনস্টাইনের পর হকিংকে বিখ্যাত পদার্থবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তার কর্মময় জীবনে প্রিন্স অব অস্ট্রিয়ান্স পুরস্কার, জুলিয়াস এডগার লিলিয়েনফেল্ড পুরস্কার, উলফ পুরস্কার, কোপলি পদক, এডিংটন পদক, হিউ পদক, আলবার্ট আইনস্টাইন পদকসহ বহু ডিগ্রি লাভ করেছিলেন তিনি।
হকিংয়ের বাবা ফ্র্যাঙ্ক হকিং ছিলেন জীববিজ্ঞানের গবেষক। আর মা ইসাবেল হকিং ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী। বাবা চেয়েছিলেন হকিং বড় হয়ে চিকিৎসক হোক, কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই হকিংয়ের আগ্রহ ছিল বিজ্ঞানে আর গণিতে।








