স্কুল পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ করেছে গাইবান্ধা সদরের কামারজানি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদীচরের মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা। চরের একমাত্র স্কুলটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নীচে ক্লাস চলছে।
স্কুলে আগুন দেয়ার ঘটনাকে নাশকতা বলছে পুলিশ। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দ্রুত স্কুল চালুর আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরীক্ষার্থীদের পুড়ে যাওয়া কাগজপত্রের বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে বলে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীদের অভয় দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামসুল আজম। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টি আগের চেয়েও ভালোভাবে নিমার্ণের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন,‘যেসব কাগজপত্র পুড়ে গেছে সেগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। যাতে একজন পরীক্ষার্থীরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে। দ্রুততম সময়ে এসব কাগজপত্র যোগাড় করতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। একই সঙ্গে স্কুলটি যেনো আগের দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায় তার ব্যবস্থা হবে। আগের চেয়েও ভালো অবকাঠামো তৈরি করা হবে।’

স্কুলে আগুন দেয়ার ঘটনাকে নাশকতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লা আল ফারুক বলেন,‘আপাতত এটা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। তবে আপাতত মনে হচ্ছে এটা নাশকতা। কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত করাতেই এই ধরণের নাশকতা হয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশে ঘটেছে এমন কোনো নাশকতার ঘটনা অনুদঘাটিত নেই। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে স্কুলে আগুন দেয়ার পেছনে ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা হবে।’

চরাঞ্চলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দরিদ্র সন্তানদের শিক্ষা পৌঁছে দিতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীচরের কামারজানী ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়ার চরে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (এটক) ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করে ‘কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি’ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আশপাশে আর কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রেখে আসছিলো। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫৯৭ জন শিক্ষার্থী পড়ছে। তাদের মধ্যে ৩৪১ মেয়ে শিক্ষার্থী। এ বছর ৭৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।

হঠাৎই গত শুক্রবার গভীর রাতে বিদ্যালটিতে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয় অফিস,শ্রেণী কক্ষ ও আসবাবপত্রসহ পুড়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার মালামাল ও শিক্ষার্থীদের সাটিফিকেট সহ মুল্যবান কাগজ পুড়ে ছাই হয়। পর দিন এসে আগুনে নিজ বিদ্যালয়ের সবকিছু পুড়ে ছাই হওয়া দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরে শিক্ষার্থীরা ।










