ভারতের ঝাড়খন্ডে মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তির নৃশংসতার শিকার হয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। সুকরা হেসা নামের ওই নারী শিক্ষককে হত্যা করে তার বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দু’ঘণ্টা পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ঝাড়খন্ডের জামশেদপুরের সেরাইকেলা-খারস্বান জেলায় খাপরাসাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড ডে মিল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে।
সেরাইকেলার সাব-ডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তা অবিনাশ কুমার জানান, অভিযুক্ত হরি হেমব্রাম (২৬) মানসিক রোগী বলে এলাকার সবাই জানে। সে কাছাকাছিই একা বসবাস করত।
মঙ্গলবার স্কুলে খাবার বিতরণের সময় হঠাৎ করে হরি তলোয়ার হাতে স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে ৩০ বছর বয়সী সুকরাকে টেনে হিঁচড়ে নিজের ঘরের কাছে নিয়ে যায় এবং তলোয়ারের আঘাতে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
ওই সময় এলাকাবাসী তাকে ধরতে ছুটে এলে সুকরার ছিন্ন মাথাটা হাতে নিয়েই সে দৌড়ে পাশের জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে হরির হাতে ধরে রাখা নিহতের মাথা দেখতে পায়। এলাকাবাসী তাকে ঘিরে রাখলেও হাতে দু’টো তলোয়ার থাকায় তার কাছে যাওয়ার সাহস করছিল না।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দু’ঘণ্টা পর হরিকে আটক করতে সফল হয় পুলিশ। ততক্ষণ তার হাতে নিহত স্কুলশিক্ষকের কাটা মাথা ধরা ছিল। তবে গ্রেপ্তারের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিতে এবং পাথর ছুড়তে শুরু করলে তাদের ঠেকিয়ে হরিকে জীবিত বের করে আনার চেষ্টায় অফিসার-ইন-চার্জসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার ও দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।







