সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের আয়কৃত অর্থ বা রেমিট্যান্সের ওপর করারোপের প্রস্তাব করেছে দেশটির শুরা কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটি। ওই প্রস্তাব অনুসারে, পাস হওয়ার পর প্রথম বছর থেকে ৬ শতাংশ করারোপ হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ধীরে ধীরে তা কমে পঞ্চম বছরে ২ শতাংশে স্থির করা হবে।
নতুন এই প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন প্রবাসীরা।
সৌদি আরব সফর শেষে গত ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সৌদিতে ২০ লাখেরও বেশি বাঙালি কাজ করছেন। রেমিট্যান্সের ওপর করারোপের প্রস্তাব পাস হলে তাদেরকেও এর সম্মুখীন হতে হবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কয়েকজন নাগরিক নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই রকম সংশয় প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থের ওপর এত ভারী করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য। এই প্রস্তাব বাতিল করার জন্য তারা সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
‘আমরা কমবেশি সবাই আমাদের আয়ের বেশিরভাগ এ দেশেই খরচ করি। আয়ের ছোট্ট একটা অংশ আমরা নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি, যেন আমাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে এবং আমরা অবসর গ্রহণের পর দিনগুলো ঠিকভাবে কাটাতে পারি। সেই রেমিট্যান্সের ওপর যদি ৬ শতাংশ কর চাপানো হয়, তবে তা আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ওপরই কর চাপানোর নামান্তর হবে,’ বলেন রাজধানী রিয়াদে কর্মরত পাকিস্তানের এক আইটি পেশাজীবী গাফ্ফার খান।
আরেক ফিলিপাইন প্রবাসী কর্মী ননি সাগাদাল বলেন, এই প্রস্তাবে ‘আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি, কারণ ফিলিপিন্সের সরকার আমাদের ওপর কোনো কর বসায়নি।’ তাই নিজ দেশের মতো সৌদিও যেন কর প্রস্তাব পাস না করে, সরকারকে তিনি এ অনুরোধ জানান।
রিয়াদে কর্মরত ভারতীয় কর্মী মোহাম্মদ কায়সার। কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর প্রস্তাবের পেছনে রেমিট্যান্স অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তি দেখানো হয়েছে, প্রবাসীদের বেতনও বর্তমানে অনেকখানি বেড়েছে।
কায়সার বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। সুতরাং রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া হাতে গোনা অল্প কয়েকজন প্রবাসীর বেতন ২০১৫ সালের পর থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং শুধু এর ওপর ভিত্তি করে জনপ্রতি ৬ শতাংশ হারে করারোপ করা একেবারেই অন্যায়।
মোহাম্মদ কায়সারের বক্তব্যের সমর্থনে সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত মিশরীয় নাগরিক মোহাম্মদ তাহা সুলাইমান বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের মধ্যে একজনেরও বেতন বাড়েনি।’
এমনি ভয় পাচ্ছেন বাকিরাও। বেশিরভাগ প্রবাসী ভাবতেই পারছেন না, প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর করারোপ করা সম্ভব।








