বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বসে ২০ মিনিট বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়।
রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে নিয়ে ২০ মিনিট বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। এসময় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বিচারপতির বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির ভারতের প্রধান বিচারপতি ও অপর বিচারপতিদের অভিনন্দন জানান। এরপর কার্যতালিকা অনুযায়ী বিচারকার্য শুরু হলে তা পর্যবেক্ষণ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। একপর্যায়ে আদালত কক্ষ থেকে বিদায় নেয়ার আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বলেন,’বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আমাদের নিয়ে আসায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি। আমি মনে করি ভারত ও বাংলাদেশের বিচারিক সংস্কৃতি একই ধরনের। আমি মাননীয় বিচারপতি ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের ভারতে সুপ্রিম কোর্টে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
“ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্যা টুয়েন্টি-র্ফাস্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ এন্ড ইন্ডিয়া” শীর্ষক দু’দিন ব্যাপী সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ৫০তম প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় ১৯৫৯ সালের ১১ নভেম্বর মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যশবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড়ও ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। এখন পর্যন্ত তিনিই ছিলেন ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের মা প্রভাদেবীর অবশ্য আইন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বেশির ভাগ সময় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়েই মেতে থাকতেন তিনি। বিচারপতি চন্দ্রচূড় ছোট থেকেই বাবার মতো আইন নিয়ে উৎসাহী ছিলেন।
মুম্বইয়ের ক্যাথিড্রাল অ্যান্ড জন কোনন স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর বিচারপতি চন্দ্রচূড় দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭৯ সালে দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে অঙ্ক এবং অর্থনীতিতে স্নাতক হন। কিন্তু অঙ্ক বা অর্থনীতি নিয়ে কাজ করার কোনও ইচ্ছা তাঁর ছিল না। বাবার মতোই দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েই তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন।
১৯৮২ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। হার্ভার্ড থেকেই আইন নিয়ে গবেষণাও করেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই চন্দ্রচূড় শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে চন্দ্রচূড় বম্বে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হন। দু’বছর পর বম্বে হাইকোর্টেরই বিচারপতি নিযুক্ত হন তিনি। ২০১৩ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন চন্দ্রচূড়। ২০১৬ সালের ১৩ মে নিযুক্ত হন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে। দেশের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের দায়িত্বও তিনি সামলান।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে অনেক আলোচিত রায় দিয়েছেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। বাবার দেওয়া রায়কেও খণ্ডন করেছিলেন এই বিচারপতি। বাবার ঘোষণা করা রায়ে ‘গুরুতর খামতি’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়।







