আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি হলে দু’ প্রতাবেশীই লাভবান হবে। লাভের বদলে ক্ষতি নেই কারও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি হলে দু’দেশেরই লাভ হবে। ক্ষতির কোনো প্রশ্নই আসে না।
কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সর্ম্পক নিয়ে যে জটিলতা আছে, তার মধ্যে সীমান্ত জটিলতা অন্যতম। এর সমাধান হলে অন্যগুলোও সমাধানের পথ পাবে।
বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বিষয়ে বিল ভারতের লোকসভায় পাস হয়েছে। বুধবার পাস হয় রাজ্যসভায়।
ড. আকমল হোসেন বলেন, চুক্তিটি হলে দু’দেশের মধ্যে যে ৬.৫ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত নয় তা চিহ্নিত হয়ে যাবে। আর সীমান্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়ে গেলে দু’দেশেরই লাভ।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দু’ দেশের মধ্যে থাকা ছিটমহলের মানুষেরা পাবে মূল দেশের পরিচয়। এর ফলে বাংলাদেশকে ১১১টি ছিটমহল ফেরত দেবে ভারত। এগুলোর মোট আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।
চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে বাংলাদেশ ৫১টি ছিটমহল দেবে যেগুলোর আয়তন ৭ হাজার ১০ একর।
ড. আকমল হোসেন বলেন, ছিটমহলগুলো ৪৭ সালের দেশ ভাগের পর থেকে ঝুলে আছে।বাসিন্দারা যেখানে বসবাস করে সেখানকার কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না। এখন ১১১ টি ছিটমহলের মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হবার সুযোগ পাবে।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে অপদখলীয় জমির একটা হিস্যা হবে উল্লেখ করে ড. আকমল হোসেন বলেন, বিশেষ করে অপদখলীয় জমিগুলো ৪৭ সাল থেকে ঝুলে আছে। এর সমাধানের দরকার ছিলো। কিন্ত এতোদিন সম্ভব হয়নি, এখন ওইসব এলাকায় যারা বাস করে তাদের সমস্যারও সমাধান হবে।
তবে তার মতে, এ চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি যে লাভটা হবে সেটা হলো, সীমান্তে মানুষ হত্যা বন্ধ হওয়া। পানি নিয়ে যে ঝামেলা তাও মিটবে বলে তিনি আশাবাদী। আর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে যে মতপার্থক্য আছে তাও কমে আসবে বলে আশাবাদী ড. আকমল হোসেন।
১৯৭৪-এ মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে সীমান্ত এবং অপদখলীয় জমির হিসাব পরিস্কার উল্লেখ থাকলেও ভারতের পার্লামেন্টে বিলটি পাস না হওয়ায় এতোদিন তার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঝুলে থাকা সেই সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অতীতে কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
তবে ১৯৯২ সাল থেকে তিন বিঘা করিডোর ব্যবহার করতে দিচ্ছে ভারত। পরে সীমান্ত প্রটোকলও সই হয়। গত বছর বিলটি ভারতীয় পার্লামেন্টের সংসদীয় কমিটি অনুমোদন দেয় এবং লোকসভার জন্য উত্থাপিত হয়। কিন্তু ভেটো দেয় বিজেপি। এখন অবশ্য বিজেপি সরকারের আমলেই তা অনুমোদন পাচ্ছে।







