হাইকোর্টের এক রায়ে বাংলাদেশের সীমান্তরেখা থেকে অভ্যন্তরে ১০ মাইল পর্যন্ত বিজিবির সম্পত্তি ঘোষণার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে এবং জাতীয় রাজস্ব আয় ফাঁকি প্রতিরোধ করতে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে জাতীয় সংসদকে চারটি পরামর্শ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রায় অনুযায়ী হাইকোর্ট জাতীয় সংসদকে যে পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো হলো:
১. সীমান্তরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ মাইল পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সম্পত্তি ঘোষণা করা।
২. উক্ত ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সমমূল্যের সরকারি খাস জমি থেকে তাদের বরাদ্দ দেওয়া।
৩. সীমান্তরেখা থেকে আট কিলোমিটার ভূমি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও সমান রাখা, যেন এই আট কিলোমিটারের প্রতিটি ইঞ্চি দূর থেকে পরিষ্কার দেখা যায়।
৪. সীমান্তরেখা থেকে ৮-১০ কিলোমিটার মধ্যবর্তী স্থান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের স্থাপনা ও প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা।
এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের ২ ডিসেম্বর যশোরের চাচড়া রায়পাড়া গ্রাম থেকে ১৫ পিস ভারতীয় শাড়িসহ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)। আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। বিচার শেষে ১৯৮৮ সালের ১৩ এপ্রিল যশোরের বিচারিক আদালত জাকিরকে তিন বছর কারাদন্ডাদেশ দেয়। পরে মামলাটি আপিল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে গত বছরের ৩ আগস্ট রায় দেয় হাইকোর্ট। সে রায়েই হাইকোর্ট জাতীয় সংসদকে এসব পরামর্শ দেন। আর এই রায়ের অনুলিপি সারা দেশের নিম্ন আদালতের বিচারক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংসদ সদস্যদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।






