বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে এখনো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারেনি পুরো দেশ। অনেকেই এখনো রাজি নয় এই পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে। এবার এই বিষয় নিয়েই ফেসবুকে পোস্ট দিলেন হাইকোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। নিজের ফেসবুকে তিনি এই সংক্রান্ত পোস্ট দেন।
জ্যোতির্ময় লিখেছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা রিট মামলার নিয়োজিত আইনজীবী হিসেবে আমি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রিট মামলায় হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে আপীল মামলা দায়ের ও নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আমার সিম নিবন্ধন করব না। এর ফলে হয়ত আমার আত্মীয় এবং বন্ধুদের অনেক সমস্যার মুখোমুখী হতে হবে। তাছাড়া, আমার পেশাগত কারণেও আমার মোবাইল ফোন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। আমি হয়ত পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও পড়ব। তথাপিও আমি নীতিগত কারণে আমার বায়োমেট্রিক তথ্য কারো কাছে দিব না। অন্তত আপীল নিস্পত্তি না হওয়ার আগে নয়। তারপর দিব কিনা ভাববো। যারা আমাকে ফোনে পাবেন না তারা আমার সাথে ফেসবুকে এবং ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। তাছাড়া, আমাকে হাইকোর্টে পাওয়া যাবে।
এরপরে তিনি আরো কিছু বিষয় তুলে ধরে লিখেন, আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে পত্রিকা ও টেলিভিশন সংবাদে জেনেছেন- গ্রামীনফোনের পাঁচজন কর্মচারীসহ মোট এগারোজন ব্যক্তিকে সিম কার্ড ক্লোন (নকল) করে মোবাইল ব্যাংকিং এর টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বায়োমেট্রিক তথ্যের অপপ্রয়োগ নিয়ে যেসব কথা এতদিন বলেছি তার হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর আর কারো মনে সন্দেহের অবকাশ রইল না।
আমি এখানে আমার নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলছি এবং কোনভাবেই কাউকে সিম নিবন্ধন না করতে কিংবা করতে বলছি না। আমি জানি বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তাই অনেকের পক্ষে ইচ্ছা থাকলেও ফোন ফেলে দেয়া সম্ভব হবে না। আর এটা বিটিআরসি এবং ফোন অপারেটররা জানে বলে তারা ব্যবসায়িক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এরকম ব্যবসাঘাতি সিদ্ধান্ত নিতে সাহস করছে।
এর আগে এই বিষয়ে রিটকারীর কথা টেনে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরো লিখেন, আদালতে রিট আবেদনকারী কিন্তু বলেননি যে তিনি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করতে চাননা। তার দাবি ছিল- সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সরকার অর্থাৎ বিটিআরসি করলে তার কোনো আপত্তি নেই। এরপর তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে অপারেটররা কোনোভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করছে না। কিন্তু আদালতে বিটিআরসি এবং অপারেটররা যেসমস্ত কাগজাদি দাখিল করেছে তাতে এটি পরিস্কার যে গ্রাহকের তথ্য তাদের সার্ভারে থাকবে। তাদের আইনজীবী সেটি আদালতে স্বীকারও করেছেন। কিন্তু তারপরও অপারেটরদের পক্ষে থেকে মেসেজ পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে এই তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। আমরা আপীলে এসব বিষয় পরিস্কার করার চেষ্টা করব।
তথ্য সুরক্ষা আইন চেয়ে তিনি লিখেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন করতে বাধ্য করার মতো কোনো আইন নেই। তাছাড়া, এই সময়ের মধ্যে সিম নিবন্ধন না করলে দেশে এমন কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। যদি আমাদের নিরাপত্তার জন্যেই সবকিছু করা হবে, তবে এত তাড়াহুড়া কেন? এত ঝাপসা প্রক্রিয়া কেন? এত হুমকি ধামকি কেন?
আমাদের এখন দাবী হওয়া উচিত- ‘তথ্য সুরক্ষা আইন’ চাই। তার আগে কোনো তথ্য দিব না। কাউকেই দিব না।








