সরকার দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটির বেশি দাবি করলেও মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-জিএসএমএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, এই সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইন্টারনেটের দাম। বর্তমানে যে ডেটা রেট আছে, তাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে একজন নিম্নবিত্ত ব্যক্তির মাসিক আয়ের ১০ শতাংশের বেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোকে দিতে হচ্ছে।
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের সার্বিক অবস্থান নিয়ে জিএসএমএ ‘বাংলাদেশ: কান্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে সিম কার্ডের ভ্যাট, মূসক এবং ইন্টারনেটের ভ্যাট ও ট্যাক্স তুলে নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশ ইন্টারনেট স্পিডের হার সবচেয়ে কম ও নেপাল বা মিয়ানমারের মতো দেশেও স্পিড বাংলাদেশের থেকে দ্বিগুণ ও ৫ বছর হয়ে গেলেও থ্রি-জি ব্যবহারের হার মাত্র ২৯ শতাংশ।
এমন চিত্র তুলে ধরে পূর্ণাঙ্গ থ্রি-জি এবং ফোর-জি সেবা দিতে বাংলাদেশের মোবাইল সেবাদাতাদের আরও স্পেকট্রাম প্রয়োজন উল্লেখ করে জিএসএমএ’র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান এমানুয়েলা লেচ্চি বলেন: স্পেকট্রামের দাম কমানো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি।
মোবাইল সেবায় বাংলাদেশের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, সিমকার্ডের ওপর থেকে ট্যাক্স ও মূসক তুলে নেয়া না হলে এর প্রভাব গ্রাহকের ওপরও পরে। গ্রাহকরা যদি মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা খরচ করে তাহলে তার ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশই সরকারের কাছে যায় কর হিসেবে।
বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আয়ের পথ খুঁজছে এই বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, এসব তুলে নেয়ার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় আপাতত কমে আসতে পারে তবে জনসাধারণের হাতে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট পৌঁছানোয় নতুন নতুন আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে। যা সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎসগুলোকে বিস্তৃত করবে।
জিএসএমএ’র এই প্রতিবেদনের আলোকে আসন্ন বাজেটে মোবাইলফোন শিল্পের ওপর আরোপিত ব্যয়ভার কমানোর তাগিদ দেন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশ-অ্যামটব-এর মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির।
তিনি তরঙ্গের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানান।








