বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চার দিনব্যাপী একাদশ কংগ্রেস শুক্রবার শুরু হচ্ছে। বেলা দুইটায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের মাধ্যমে কংগ্রেস শুরু হবে।
কংগ্রেসকে সামনে রেখে দলটির প্রস্তুতি কমিটির গণমাধ্যম উপ-পরিষদকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাতে তিনি এ দেশের বাম রাজনীতিকে মূল্যায়ন করেছেন।
সাক্ষাতকারে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘শ্রেণী প্রধান সত্য। শ্রেণী সংগ্রাম ছাড়া এদেশে কেন; কোনো দেশেই বিপ্লব হবে না। বুর্জোয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে? তারা আসবে, তাদের মধ্যে প্রগতিশীল রয়েছে। তবে জাতীয়ভাবে বুর্জোয়া খোঁজা বন্ধ করতে হবে। নেতৃত্ব দিবে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি যার সঙ্গে কৃষক থাকতে হবে। এদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো কৃষক এবং কৃষি নির্ভর।কাজেই কৃষককে না আনলে এখানে বিপ্লব হবে না। কমিউনিস্ট পার্টির দুর্বলতা ছিলো একটা কারণ তারা কৃষকের কাছে যেতে পারেনি।’
সমাজ বিপ্লবের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ বিপ্লব করতে হবে। সমাজ বিপ্লব যদি করতে চাই তবে মেহনতি মানুষের কাছে যেতে হবে। এই মেহনতি মানুষের বেশীর ভাগ হচ্ছে কৃষক। তাই কৃষককে জানতে হবে এবং কৃষককে আনতে হবে। তাদের আনতে না পারলে এ আন্দোলন বিস্তৃত হবে না এবং শক্তিশালী হবে না। বিপ্লবের স্বপ্ন দমানো যাবে না, বিপ্লবের শত্রু হচ্ছে পুঁজিবাদ।’
“বামপন্থী আন্দোলন এ দেশে মানুষের মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা; সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছে এবং সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করেছে। অন্যরা বিশেষ করে জাতীয়তাবাদীরা যে উন্নতির কথা ভাবে সেটা পুঁজিবাদী। আর বামপন্থীরা যে কথা ভাবে সেটা সমাজতান্ত্রিক। এবং তার সঙ্গে সমাজের পরিবর্তন জড়িত। সেই পরিবর্তন না হলে মানুষের মুক্তি হবে না।’
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, ‘দেশভাগ হলো ১৯৪৭ সালে, সেটা হলো একটা ক্ষমতা হস্তান্তর, সেটা কোনো স্বাধীনতা হলো না। মানুষের মুক্তিও এলো না। তারপরেই যেটা হলো বাংলাদেশে একের পর এক আন্দোলন হয়েছে, ওই মুক্তির আন্দোলন। তিনটে বড় ঘটনা। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, একটা হচ্ছে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, একটা হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এই তিনটে ঘটনাতেও কিন্তু বামপন্থীরা চালিকা শক্তি ছিল। কিন্তু তারা নানা ঐতিহাসিক কারণে নিজেদের দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির কারণে তারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারেনি। নেতৃত্ব দিয়েছে জাতীয়তাবাদীরা। এবং জাতীয়তাবাদীরা পুঁজিবাদে দীক্ষিত। কাজেই দেশের মানুষের মুক্তি আসেনি। কিন্তু উজ্জ্বল দিকটি হচ্ছে এই– ধারাবাহিকভাবে বামপন্থীরা ওই মুক্তির সংগ্রামটাকে অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বামপন্থীদের অসাধারণ আত্মত্যাগ সত্ত্বেও এ দেশে সমাজ বিপ্লব হয়নি; কারণ বামপন্থীরা আন্দোলন করলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের নেতৃত্বে দিতে পারেনি। তারা সংগঠন করেছে, সংগঠনে প্রচুর সদস্য এসেছে এবং প্রবহমান গণসমর্থনও ছিল; কিন্তু তারা সংগঠনটিকে ক্রমবর্ধমান বিপ্লবের অভিমুখে নিয়ে যেতে পারেনি।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারত কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন। ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর কানপুরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে নিখিল ভারত কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয়।
শুক্রবার ১১তম পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধনী দিনে দলীয় পতাকা নিয়ে নেতা-কর্মীরা রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের করবে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষে হবে।
বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে কংগ্রেসে ২৬ জন প্রতিনিধি সংহতি জানাবেন। উদ্বোধনের পরদিন ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় গুলিস্তানের কাজী বশীর মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে। তা চলবে ৩১ অক্টোবর বিকাল পর্যন্ত।
সেখানে আগামী চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনসহ দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে।







