সাধনার মাস রমজান বছর ঘুরে রহমতের বহর নিয়ে এল মুসলিমের দুয়ারে। মাহে রমজানের আগমনের সাথে সাথেই রোজাদারের মাঝে সাহরি ও ইফতারের ধুম পড়ে যায়। দিনব্যাপী রোজার দুইপ্রান্তে সাহরি ও ইফতারের এ সেতুবন্ধন যেন রহমত, বরকত ও আনন্দ-খুশীর এক অপার সংমিশ্রণ।
সাহরি আর ইফতারেই সিয়ামের শুরু-সমাপ্তি হয়। দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরতির কারণে মানবশরীরে দুর্বলতার অাগমন ঘটা স্বাভাবিক, ফলে তা থেকে অনেকটা পরিত্রাণ পেতে প্রাক-প্রস্তুতিস্বরূপ সাহরির গুরুত্বের সীমা থাকে না। পাশাপাশি পানাহারের এ দীর্ঘ বিরতির পর শারীরিক স্বচ্ছলতায় বেগ পেতে ইফতারের প্রয়োজনীয়তাও অপরিসীম।
কেবল দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতিতেই সাহরি ও ইফতারের গুরুত্বের মানদণ্ড স্তিমিত নয়, বরং সাহরি ও ইফতার ইবাদতের ক্ষেত্রেও বিশেষ একটি স্থান দখল করে আছে। সুবহে সাদিকের পূর্বে সিয়াম পালনের নিমিত্তে যে পানাহার করা হয়, তাই সাহরি। অপরিমেয় বরকতে পরিপূর্ণ এ সাহরি সম্পর্কে হাদিসে পাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে” (সহিহ বুখারী)। হাদিসে পাকে অন্যত্র প্রিয়নবী ইরশাদ করেছেন, “সাহরি হল একটি বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরি খাওয়া বাদ দিওনা। এক ঢোক পানি পানে হলেও সাহরি খেয়ে নাও। কারণ সাহরি গ্রহণকারীকে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন (মুসনদে আহমদ)”।
অপরদিকে সারাদিন সিয়াম পালন করে সূর্যাস্তের পর যে খাবার গ্রহণ করা হয় সেটাই ইফতার। ফুরফুরে মন ও সামনে নানান স্বাদের খাবার নিয়ে দরুদ পড়ে পড়ে মুআজ্জিনের আযানের প্রতীক্ষারত রোজাদারের মধ্যে ইফতারের এ মুহূর্তে তৈরি হয় অন্যরকম এক অনুভূতি। স্বর্গীয় আবহ পেয়ে দিনব্যাপী অনাহারি ও ক্লান্ত শরীর তখন যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ইফতারের এ মহা আনন্দের মুহূর্তের কথা ব্যক্ত করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-“রোজাদারের জন্য দুটি ঈদ বা খুশী রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময়, আর অপরটি হলো মহান রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় (সহিহ বুখারী)”।
ইফতারের এ খুশী শুধু সামর্থবানদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকুক ইসলামী শরীয়ত তা চায়না। তাইতো অন্যের সাথে ইফতারের এ আনন্দ ভাগকারীর জন্যও অসংখ্য বরকতের ব্যবস্থা করে মহানবী ইরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে ব্যক্তিও ঐ রোজাদারের সমান সওয়াব অর্জন করে। আর এতে ঐ রোজাদারের সওয়াব কিঞ্চিত পরিমাণও কম হবেনা” (সুনানে তিরমীজি)।







