বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির সম্পর্কে বিষ্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন তার সাবেক স্ত্রী পদ্ম লক্ষ্ণী। সম্প্রতি প্রকাশিত তার আত্মজীবনীতে সাবেক স্বামী সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘সালমান রুশদি ঈর্ষাকাতর, লোভী ও কামুক’।
পদ্ম লক্ষ্ণী বলেন, প্রত্যেক বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর রুশদিকে শান্ত করতে তার অনেক বেগ পেতে হতো। শুধুমাত্র ঈর্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার জন্যই রুশদির ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মডেল ও টিভি উপস্থাপক পদ্ম লক্ষ্ণী ‘স্যাটানিক ভার্সেসে’র লেখক রুশদির সাথে তার ৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অনেক অজানা কাহিনী প্রকাশ করেন বইটিতে। ৪৫ বছর বয়সী লক্ষ্ণীর আলোচিত আত্মজীবনীটি গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে।
রুশদির সাবেক এই স্ত্রীর আরো অভিযোগ, রুশদির বিকৃত যৌন লিপ্সা পূরণে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে বিয়ে করাকে ‘বাজে বিনিয়োগ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই বিতর্কিত লেখক।
আত্মজীবনীতে লক্ষ্ণী জানান, ১৯৯৯ সালে ৫১ বছর বয়সী সালমান রুশদির সাথে যখন সাক্ষাৎ হয় তখন তার বয়স ছিল ২৮ এবং তিনি ছিলেন অবিবাহিত। আর ওই সময় রুশদি মাত্রই তার তৃতীয় বিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন।
রুশদি-পদ্ম বিয়ে করেন ২০০৪ সালে। তখন তারা লন্ডন ও নিউইয়র্কে সমানভাবে বসবাস করতেন। আর রুশদির দুই সন্তান বসবাস করতো নিউইয়র্কে।
নতুন বিয়ের পর স্বাভাবিক যেটা ঘটে পদ্ম-রুশদির ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। রুশদি কিভাবে রোজ সকালে বিছানায় তার ব্রেকফাস্ট করতে অভ্যস্ত ছিল এবং প্রথমে তাদের বিবাহ সুখী ছিল, পদ্ম তার লেখায় সেটা উল্লেখ করেছেন।
তবে বিয়ের প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে তিক্ততা বাড়তে থাকে। রুশদির অদ্ভূত যৌন আচরণ ও মারাত্মক বাক্যবাণে লক্ষ্ণীর জীবন অল্পদিনেই অতিষ্ট হয়ে ওঠে। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় বিচ্ছেদের মধ্যদিয়ে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।
রুশদির জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে হলেও বেড়ে উঠেছেন ব্রিটেনে। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০০৭ সালে ব্রিটেনের রানী তাকে ‘নাইট’ উপাধি দেন। আর ‘মিডনাইট চিলড্রেন’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮৩ সালে বুকার সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
রুশদির সঙ্গে ঝামেলা চলার সময় পদ্ম লক্ষ্ণীর একটি গ্ল্যামারাস ছবি নিউজ উইক ম্যাগাজিনের কভার পেজে ছাপা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন ‘নিউজউইক আমাকে শুধুমাত্র সেসময়ই তাদের প্রচ্ছদ করে যখন কেউ আমার মাথায় গুলি লাগাতে চেষ্টা করে।’
এবার বই প্রকাশের পর পিপলস উইককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে পদ্ম বলেছেন, আমি শুধু আমার নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই। আমি জীবনের একটা স্টেজ থেকে বের হয়ে অন্য একটা স্টেজে যাওয়া চেষ্টা করছি। আর এটা করছি এই জন্য যে, আমার প্রয়োজনে সর্বত্র তাকে(রুশদি) দরকার হবে না।
রুশদিকে বেদরদী উল্লেখ করে পদ্ম বলেন, সে খুবই বেদরদী, তার আচরণ বেদনাদায়ক। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কারণে শারিরিক মেলামেশা করতে না চাইলেও সে খুবই বেদনায়ক আচরণ করতো।
পদ্ম বলেন, আমি তার জন্য কখনোই সেখানে থাকতে চাইনি। কিন্তু কােথায় যেন একটা বড় ভুল ছিল। আমি কিছু বুঝতে পারিনি। অনেকটা সময় ভুলে ভুলে গেছে।
রুশদির নির্দয়তার কথা বলতে গিয়ে নিজের একটি কঠিন সময়ের ঘটনার কথা বলেন পদ্ম। একবার তার দুটি কিডনিতে অপারেশান করার পর তাকে কোনাে রকম দেখভাল তো করেনই নি, উল্টো সেইদিনই নিজের কাজে বাইরে চলে যান রুশদি। পদ্মের ভাষায়, যাওয়ার সময় দরজা বন্ধ করতে করতে সে বলতে থাকে শােতে আমাকে যেতেই হবে।
এরপর কিছুটা সুস্থ হয়ে লক্ষ্ণী যখন একজন আইনজীবী পর্যন্ত যেতে সমর্থ হন, ঠিক তখনই রুশদিকে ডিভোর্স দেন।
রুশদির সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ক্রীড়া এবং শিল্প ব্যবস্থাপনা কোম্পানি আইএমজি প্রধান নির্বাহী বিলিয়নিয়ার ফ্রােস্টম্যানের সাথে সম্পর্ক হয় পদ্ম লক্ষ্ণীর। ২০১১ সালে মারা যান ফ্রােস্টম্যান। লক্ষ্ণী বর্তমানে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী অ্যাডাম ডেলের ঘর করছেন এবং সেখানে তার ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
সাবেক স্ত্রীর আক্রমণে এখনো পর্যন্ত কোনাে প্রতিক্রিয়া দেননি রুশদি।
কিন্তু লক্ষ্ণীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর রুশদি বলেছিলেন, এই বিবাহ তার জীবনে অপ্রয়ােজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করেছে। রুশদির ভাষায়, আমি চারবার বিয়ে করেছি। কিন্তু কখনোই আমার কাছে এটাকে প্রয়োজনীয় মনে হয়নি।
পদ্ম লক্ষ্ণীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর রুশদির জীবনটা হয়েছে উঠেছে সুখ-দুঃখময়। তার নতুন বান্ধবী পায়া গ্লেল নিউইয়র্ক পােস্টের সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, রুশদি একটা ভীরু, অকার্যকর এবং অপূর্ণাঙ্গ পুরুষ।
পদ্মর আক্রমণে এখনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও গ্লেলের কথায় তেলে-বেগুনে জ্বলেছিলেন রুশদি। তখন তিনি বলেছিলেন, মিস গ্লেল একজন অস্থির ব্যক্তি। তিনি যেখানেই যান, সেখানেই একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের বড় বালতি বহন করে নিয়ে যান।
সালমান রুশদি বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। সদ্য অনুষ্ঠিত অস্কার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এক উঠতি মডেলকে সাথে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এই বিতর্কিত লেখক।







