ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠেছে গত বছর। তিন মৌসুম পর খেলেছেন জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। আর ১৩ মাস পর উঠে যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা। মোহাম্মদ আশরাফুল তাই সামনে তাকিয়ে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ছেন নতুন করে।
মিরপুরে অনুশীলনের সব ধরণের সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সুযোগ কাজে লাগাতে আটঘাট বেধেই নেমেছেন আশরাফুল। ইনডোরের নেটে মেশিন থেকে বেরিয়ে আসা বলে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন একদিন পর পর। ‘সব ক্রিকেটারের কোচ’ নাজমুল আবেদিন ফাহিম দেখভাল করছেন আশরাফুলের ব্যাটিংয়ের খুটিনাটি। বিসিবির আরেক কোচ আশিক মজুমদারও আছেন আশরাফুলের সহায়তায়।
কখনও জিমে, কখনও একাডেমি মাঠে রানিংয়ে ঘাম ঝড়াতে দেখা যাচ্ছে আশরাফুলকে। বাংলাদেশ দলে ফেরার মিশন কী শুরু হয়ে গেছে? হ্যা, সেই বিশ্বাস ধরেই আগাচ্ছেন সর্বকনিষ্ঠ এই টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।
আশরাফুলের বিশ্বাস, এখনও বাংলাদেশকে দলকে দিতে পারবেন অনেক কিছুই। তবে তড়িঘড়ি নেই; ফেরার প্রক্রিয়া নিয়েই কেবল ভাবছেন এখন। হুট করেই যে ফেরা সম্ভব না সেটি ভালো করেই জানা তার। চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি হয়ে সে কথাই বললেন , ‘আবার বাংলাদেশ টিমে খেলার স্বপ্ন তো অবশ্যই আছে। আগে প্রসেস ঠিক করতে চাই। ফিটনেস ও স্কিলে ইমপ্রুভ করতে চাই। জাতীয় লিগ শুরু হতে তিন মাস বাকি। এই সময়টা পরিশ্রম করতে পারলে আর লিগে ভালো ভালো ইনিংস খেললে হয়তো নির্বাচকরা চিন্তা করবেন আরেকটা সুযোগ দেয়া যায় কিনা।’
শুক্রবার (৭ জুলাই) ছিল আশরাফুলের ৩৩তম জন্মবার্ষিকী। ৩৪-এ পা রেখেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যখন ফিরবেন তখন ৩৪ পেরিয়ে যাবেন। বয়সটাকে সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু মনে করেন না এই ক্রিকেটার, ‘আমার কাছে বয়সটা একটা নাম্বার মাত্র। আমি যদি ফিটনেস এবং স্কিল ঠিক রাখতে পারি, আমি দেশকে অনেক কিছু দিতে পারবো; এটা আমার বিশ্বাস। সেই লক্ষ্যেই আসলে এই কষ্ট করা, চেষ্টা করা। আসলে সবাই বাংলাদেশ টিমে খেলতে পারে না। আমি ভাগ্যবান বাংলাদেশ টিমে ১৩ বছর খেলেছি। আরেকবার যদি খেলতে পারি সেটা হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

অনুশীলনে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গ পাচ্ছেন আশরাফুল। মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এনামুল হক জুনিয়রদের সঙ্গে রানিং করতে দেখা গিয়েছে তাকে। কখনও নবীনদের সঙ্গেও ক্রিকেট নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। মিরপুরে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ আশরাফুল।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং উপহার দিতে পারেননি আশরাফুল। জানালেন প্রস্তুতি ঘাটতি থাকায় সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি, ‘শেষ মৌসুমটা আমার ভালো যায়নি। জাতীয় লিগে ছয়টা ইনিংস খেলেছি, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১০টা ইনিংস খেলেছি। মাত্র দুইটা ফিফটি করেছি। শেষের দিকে ভালো হচ্ছিল; দুর্ভাগ্য যে আমার টিম কলাবাগান সুপার লিগ খেলতে পারিনি। শেষ মৌসুমটায় পুরোপুরি প্রস্তুতি ছিল না, সত্যি কথা। আসলে বাবা হয়েছি, বাবা মারা গেল, শাশুড়ি মারা গেল-সব কিছু মিলিয়ে পুরোপুরি অনুশীলন করতে পারিনি যতটা দরকার ছিল।’
১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন আশরাফুল। তার টেকনিক নিয়ে কখনই প্রশ্ন ছিল না। এখনও নিখুঁত তার ব্যাটিং টেকনিক। তবে নিজেকে আরও ভালোভাবে ফিরে পেতে এখন টেকনিক নিয়েও কাজ করছেন তিনি, ‘১৭- ১৮ বছর এক ধরনের টেকনিক ছিল। ছোটখাট টিউনিং করছি। টপ হ্যান্ডে বেশি খেলতাম, বটম হ্যান্ড কম ব্যবহার হতো। ছোটখাট কিছু জিনিসে উন্নতির চেষ্টা করছি টপ হ্যান্ডের সাথে বটম হ্যান্ডের কাজ যদি বাড়াতে পারি এই তিন মাসে তাহলে বড় শট খেলার জন্য বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হবে না। আরও সহজ হয়ে যাবে। সেটা নিয়েই কাজ করছি।’
২০১৮ সালের আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অনুমতি পাবেন আশরাফুল। তার আগে ঘরোয়া লিগের পুরো মৌসুম পাবেন নিজেকে প্রমানের। মৌসুম শুরু হবে অক্টোবরে। সামনের তিন মাসে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে আগের ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন লক্ষ্য আত্মবিশ্বাসী আশরাফুলের।










