বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামি নূর হোসেন, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও এম মাসুদ রানা খালাস চেয়ে আপিল করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রোববার তাদের পক্ষে আইনজীবীরা আলাদা আলাদা আপিল করেন।
এর আগে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এ মামলায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (চাকরীচ্যুত) এম মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অন্য আসামিরা হলেন, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।
আর হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ১১ জন হলেন: সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, নুর হোসেনের সহযোগী মুর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু ওরফে মিজান, মো. রহম আলী, মো. আবুল বাসার, সেলিম, মো. সানাউল্লাহ ওরফে সানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন ও করপোরাল মোখলেছুর রহমান এবং ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কনস্টেবল হাবিবুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিনের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়।
অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। অন্য নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।









