শেষ বলে প্রয়োজন ৬ রান। আন্দ্রে রাসেল ব্যাটিংপ্রান্তে থাকায় যত উত্তেজনা! বল হাতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দিলেন ইয়র্কার। রাসেল গেলেন পড়ে। তার পা ছুঁয়ে বল বাউন্ডারি পার হয়ে গেলেও মাথাব্যথা থাকল না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। কারণ চরম উত্তেজনার ম্যাচ ততক্ষণে এক রানে জিতে টেবিলের সেরা দুইয়ে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে তামিম-ইমরুলের দল!
টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১২৭ করেও ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে মাত্র এক রানের জয় পেয়েছে কুমিল্লা। এই জয়ে সেরা দুইয়ে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত ইমরুল কায়েসের দলের। আর হেরে প্লে-অফ ঝুলে থাকল ঢাকার। হাতে থাকা শেষ ম্যাচটিই এখন সাকিব আল হাসানদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই।
মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথমে ব্যাট করে ১২৭ রানে অলআউট হয় কুমিল্লা। পরে বোলারদের কল্যাণে এই সংগ্রহ নিয়েই ম্যাচটা বের করে ফেলেছে দলটি।
অথচ তারকায় ঠাসা ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপের কাছে ১২৮ মামুলি লক্ষ্য হওয়ার কথা। কিন্তু যেভাবে আত্মহত্যার মিছিলে নামলেন ব্যাটসম্যানরা, তাতে ঢাকার কাছে এই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল পাহাড়সম।
শুরুটা করলেন উপুল থারাঙ্গা। আফগান হযরতউল্লাহ জাজাইয়ের বদলি হিসেবে নেমে দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে ফিরলেন লঙ্কান ওপেনার। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন স্পিনার মেহেদী হাসান।
দুই ওভার পর আরেক ওপেনার মিজানুর রহমানকে ইমরুলের ক্যাচ বানালেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। পরের ওভারে ১ রান করা রনি তালুকদারের স্টাম্প যখন উপড়ে দিচ্ছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ঢাকা তখন ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কাঁপছে।
দলের বিপদে ছায়া হতে পারেননি অধিনায়ক সাকিবও। অহেতুক তাড়াহুড়ো দেখাতে গিয়ে ৭ রানের মাথায় মেহেদী হাসানের বলে নিজের স্টাম্প বিলিয়ে এলেন। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোমর নড়বড়ে হয়ে যায় ঢাকার।
নড়বড়ে কোমরে ৪২ রানের জুটি গড়ে ওষুধের প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন সুনিল নারিন ও কাইরেন পোলার্ড। সেই জুটি বিপদ হয়ে ওঠার আগেই ওয়াহাব রিয়াজের ক্যাচ বানিয়ে নারিনকে ফেরান শহীদ আফ্রিদি।
নারিন ফিরলেও কুমিল্লার বিষের ফোঁড়া হয়ে উইকেটে ছিলেন পোলার্ড। সঙ্গে যোগ দেন আন্দ্রে রাসেল। দুই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার মিলে কুমিল্লার বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ম্যাচটাও বের করে নিচ্ছিলেন।
সেই অবস্থাতেই ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সাইফউদ্দিন। ১৭তম ওভারে মেডেন নেয়ার পাশাপাশি পরপর দুই বলে পোলার্ড ও নুরুল হাসান সোহানের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন কুমিল্লা অলরাউন্ডার।
এরপরও ম্যাচ বারবার হেলেছে দুই দলের দিকে। কখনো কুমিল্লার দিকে আবার কখনো ঢাকার। উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে সবটা জমা হয় শেষ ওভারে।
জিততে হলে শেষ ওভারে করতে হত ১৩। সাইফউদ্দিন প্রথম দুই বলে দিলেন মাত্র এক রান, সঙ্গে রুবেল হোসেনের উইকেট। ব্যাটিং প্রান্তে আন্দ্রে রাসেল থাকায় যা একটু ভরসা ছিল ঢাকার। মাঝের দুই বলে কোনো রান নিতে না পারলেও পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে ঢাকার সমর্থকদের আশা বাড়ান ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। কিন্তু শেষ বলে সাইফের সেই অসাধারণ ডেলেভারিতে মাটিতে নামলেন রাসেল, সঙ্গে নামল ঢাকাও!







