মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিল বাতিল করে ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন আদালত। মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের পঞ্চম আপিল মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। মামলাটি আপিল বিভাগে বুধবারের কার্যতালিকার ১ নম্বরে রাখা হয়েছিলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চারটি অভিযোগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
গণহত্যা, হত্যার ৪ অভিযোগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড, একইসঙ্গে গণহত্যা ও হত্যার আরও ৩ অভিযোগে ২০ বছর করে এবং নির্যাতনের ২ অভিযোগে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলের রায়ে শুধুমাত্র একটি অপহরণের অভিযোগে দেওয়া ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার আপিলের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর আজীবন কারাদণ্ডাদেশ ভোগ করছেন সাঈদী। মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় এখন প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যু পরোয়ানা সাকা চৌধুরীকে পড়ে শোনাবেন কারা কর্তৃপক্ষ। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায়ে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে সংবিধান অনুযায়ী সাকা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সাকার নিকট আত্নীয়রা তার সাথে দেখা করার পরে কারা কর্তৃপক্ষের ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়ন করবে। সাকা চৌধুরীর ক্ষেত্রে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াগুলো দৃষ্টান্ত হিসাবে সামনে থাকছে।
২০১২ সালের ডিসেম্বরে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হলেও একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল।







