শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় দেওয়া আপিল বেঞ্চের দুই বিচারপতি অবসরে যাওয়ায় মামলাটির রিভিউ শুনানি বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।
রোববার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে নতুন করে বেঞ্চ গঠন করতে হবে। এরপর রিভিউ শুনানি শুরু হবে।
এদিনই সাজা কমিয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন করেছে আসামীপক্ষ। তারা বলেছেন, রিভিউ বিবেচনায় নিলে আসামী খালাস পাবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের আইনী বৈধতা নেই আসামীপক্ষের এই দাবির বিষয়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমাদের আবেদন সঠিক হয়েছে, কোনো চাপ সৃষ্টি করতে রায়ের রিভিউ চাননি তারা।’
ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশাবালীকে হত্যার দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল, সেই সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন আপিল বিভাগ। রায়ে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়।
সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রথমে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর ৫ দিনের মাথায় করে আসামীপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদন নিয়ে আসামীপক্ষের মন্তব্যে জবাব দেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, আমাদের রিভিউ আবেদনের ভিত্তি নেই- তাদের এমন মন্তব্য করা ঠিক না। সেটা আদালত দেখবে। আমি যেসব গ্রাউন্ড নিয়েছি আমার বিবেচনায় সেসব সঠিক রয়েছে। কোনো চাপ সৃষ্টি করতে এসব গ্রাউন্ড নেওয়া হয়নি।
এটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সাঈদীর মামলায় আপিল শুনেছেন ৫ বিচারপতি, বর্তমানে ২ বিচারপতি অবসরে যাওয়ায় প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ ঠিক করবেন। এক্ষেত্রে শুনানি বিলম্বিত হতে পারে।’
এর আগে ১২ জানুয়ারি সাঈদীকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাঈদীর আপিলে ট্রাইব্যুনাল-১ এর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ।
রায়ে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ২টি অভিযোগে আমৃত্যু এবং একটিতে যাবজ্জীবন, ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য অংশের জন্য খালাস দেন আপিল বিভাগ। ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল মামলাটির আপিল শুনানির পর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখেন আপিল বিভাগ। পাঁচ মাসের মাথায় সংক্ষিপ্ত রায়ের পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় এক বছর সাড়ে তিনমাস মাস পর।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।







