বাংলাদেশে সাপ্তাহিক রাজনৈতিক পত্রিকায় রিপোর্টিং ভিত্তিক বিদ্রোহীধারার আধুনিকতার প্রবর্তক ছিলেন মিনার মাহমুদ। আজ সাংবাদিক মিনার মাহমুদের ৫৭তম জন্মদিন।১৯৫৯ সালের এই দিনে তিনি ফরিদপুরে জন্মগ্রহন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন।
ছাত্র জীবনে তিনি লেখালিখি শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন।১৯৮৭ সালে মিনার মাহমুদ মাত্র ২৯ বছর বয়সেই সম্পাদক হয়েছিলেন সংবাদপত্রের ইতিহাসের বাঁক বদলকারী প্রকাশনা ‘সাপ্তাহিক বিচিন্তা’র।
সেই সময়ে সর্বোচ্চ এক লাখ ৮৬ হাজার পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল বিচিন্তা। ৩২ পৃষ্ঠার এই সাপ্তাহিক কাঁপন ধরিয়েছিলো স্বৈরাচারী এরশাদের মসনদে। ভীত এরশাদ বিচিন্তা বন্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, জেলে পুরেছেন মিনার মাহমুদকে।
১৯৮৭ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিন্তা ভেঙে দিয়েছিল সাংবাদিকতার প্রচলিত সব রীতিনীতি, নিয়মকানুন, শৃঙ্খল। সত্যের এমন কঠিন আর চাঁছাছোলা প্রকাশে চমকে গিয়েছিল সবাই। তখনকার সাংবাদিকতার মূলধারার সবাই বিচিন্তা’কে পোলাপাইনের শখ আর বেয়াদবি বলে অবজ্ঞা করেছিলেন, উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। নিয়মকানুন না মানা, স্মার্ট, আধুনিক সাংবাদিকতার সেই ক্ষীণ ধারাটিই পরে খবরের কাগজ হয়ে দৈনিক আজকের কাগজে অনেকটা সুশৃঙ্খল। আজকে যেটি সাংবাদিকতার মূলধারা, সেটির একটি উৎস অবশ্যই ৩২ পৃষ্ঠার বিচিন্তা।
১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি পুনরায় সাপ্তাহিক বিচিন্তা প্রকাশ করেন। কিন্তু বিভিন্ন মামলা হয়রানির কারণে কিছু দিন পর পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর দীর্ঘকাল আর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন নি।তার একটি গল্পের বই রয়েছে ‘মনে পড়ে রুবি রায়’।
২০০৯-এ দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করার চেষ্টা করেন।এছাড়া বিচিন্তা পুনঃ প্রকাশ করেন। ওই বছরের শুরুতে তিনি শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে তিনি আজকের প্রত্যাশা নামক একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ধূমকেতুর মতো ক্ষণিক সময়ের জন্য এসে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অন্য রকম এক আলো ছড়িয়ে যাওয়া মিনার মাহমুদ আলাদা আলাদা গল্পের বিভিন্ন রকম চরিত্রের এক অদ্ভুত নায়ক। পুরোপুরি প্রচারবিমুখ স্বাপ্নিক মিনার মাহমুদকে কোনো একজন মানুষ কোনোভাবেই পুরোটা জানেন না, জানা সম্ভব না। কোনোভাবেই তার নিজস্ব জগতে কেউ ঢুকতে পারেননি।
২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ্চ তারিখে দিবাগত রাত্রে তিনি আত্মহত্যা করেন। তিনি গভীর বিষাদে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি স্ত্রীকে সম্বোধিত কাছে স্বীকারোক্তিমূলক একটি চিঠি রচনা করেন। তারপর অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। এতেই তার মৃত্যু হয়।
তার অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে সকল স্তরে শোক ছায়া নেমে আসে। দেশের বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক সমাজে তোলপাড় শুরু হয়। পত্র-পত্রকায় প্রচুর লেখালিখি হয়। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মিনার মাহমুদকে ৩১ মার্চ তারিখে দাফন করা হয়।






