‘আপনি কি নেশা করে গাড়ি চালাচ্ছিলেন?’
‘একেবারেই নয়।’ বললেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়।
‘আপনার বিরুদ্ধে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কী বলবেন?’
‘এই অভিযোগও সত্যি নয়।’
‘তাহলে দুর্ঘটনাটি ঘটল কীভাবে?’
‘আমার আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী এসব প্রশ্নের উত্তর আগে পুলিশকে জানাব, তারপর আপনাদের বলব। পুলিশ পুলিশের মতো তদন্ত করছে। আমি এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আজ (শুক্রবার) আদালতে গিয়েছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি থানায় গিয়ে স্টেটমেন্ট দিয়ে আসব।’
এমনিভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। গত ২৯ এপ্রিল ভারতের বাংলা সিরিয়ালের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক বিক্রম চট্টোপাধ্যায় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। গাড়িতে এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জনপ্রিয় মডেল সনিকা সিংহ চৌহান। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। শনিবার ভোর চারটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতায় রাসবিহারী মোড়ের কাছে লেক মলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারীর দিকে সাদা রঙের একটি গাড়ি ছুটে আসছিল। তখন চালকের আসনে ছিলেন বিক্রম। তাঁর পাশে বসেছিলেন সনিকা। লেক মলের সামনে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে গাড়িটি। এরপর গাড়িটি একটি দোকানে ধাক্কা মেরে ছিটকে গিয়ে আবার ধাক্কা মারে ডিভাইডারে। দুমড়ে মুচড়ে যায় গাড়িটি।
এরপর আশেপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাইপাসের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান, মাথা এবং দেহের বিভিন্ন জায়গা থেকে মারাত্মক রক্তক্ষরণে সনিকা মারা যান। বিক্রমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ২৯ এপ্রিলের ভোররাতের সেই কঠিন স্মৃতি ভুলতে পারছেন না বিক্রম। রাতভর পার্টির পর চালকের আসনে বসেছিলেন তিনি। পাশে বন্ধু সোনিকা। তিনি সোনিকার মৃত্যুর খবর পান হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। গত বৃহস্পতিবার ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে।
গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিক্রম বললেন, ‘কষ্টটা আমার কোথায় হচ্ছে, বোঝাতে পারব না। এই ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।’
গত শুক্রবার আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিক্রম। গাড়ি দুর্ঘটনা মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করেন। এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান তিনি। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিক্রম জামিনে মুক্ত থাকতে পারবেন।








