সাউথ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকে দেশটিতে ক্রমাগত সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুও।
বিবিসি বলছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে শপিংমলে লুটের সময় পদচাপায় মারা গেছে ১০ জন।
লুটপাটের সময় ডার্বানের একটি শপিংমলের নিচ তলায় আগুন ধরে যায়। সেসময় বিবিসির ক্যামেরায় দেখা যায়, দ্বিতীয় তলা থেকে মা তার এক শিশুকে বাঁচাতে নিচে ছুটে ফেলছেন।
মূলত গত শনিবার থেকে বেড়ে গেছে সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। বিভিন্ন শহরে বন্ধ হয়ে গেছে মহাসড়ক। জুমার নিজ প্রদেশ কাওয়াজুলু নাটাল (কেজেডএন)-এ সহিংসতা বেশি ছড়িয়েছে। এ প্রদেশেই জোহানেসবার্গ অবস্থিত।
কাওয়াজুলু নাটালের প্রধান জানান, প্রদেশটিতে এ পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন। আর গাউটাং প্রদেশে মারা গেছেন ১৯ জন।
পুলিশ বলছে, তারা এখন পর্যন্ত সহিংসতার দায়ে ১ হাজার ২৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অনেকেকে সহিংসতায় উস্কানিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রমাফোসা এবারের সহিংসতাকে ১৯৯০ দশকে বর্ণবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় সহিংসতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জুমা আদালত অবমাননার দায়ে কারাদণ্ডের পর আত্মসমর্পণ পর থেকেই এমন সহিংসতা শুরু হয়েছে দেশটিতে। গত বুধবার কাওয়াজুলু-নাতাল প্রদেশে জুমা তার নিজ বাড়ির কাছেই এক কারাগারে যান জ্যাকব জুমা। ওই দিনের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতো বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
দুর্নীতির তদন্তে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত অবমাননা হয়েছে- এমন অভিযোগে জ্যাকব জুমাকে গত সপ্তাহে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেই সাজার কারণে সাউথ আফ্রিকায় এক অভূতপূর্ব আইনী নাটকের সৃষ্টি হয়। সেখানে বুধবার রাত ১০টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।








