অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এবারের বইমেলায় ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বেশি। এছাড়া এবারের মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী মিলিয়ে এক কোটি ১০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। অনলাইন নির্ভরতার যুগে এ পরিসংখ্যান অনেকটা আশার খবর হলেও ঈদ, পূজা ও পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবের বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে আছে বইমেলা। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন এফইএবি সূত্র বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশিয় বাজারে পোশাক বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৫শ কোটি টাকার। শুধু ঈদ-উল-ফিতরের আগে বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বাকিটা বিক্রি হয়েছে পহেলা বৈশাখ, ঈদুল আযহা, দুর্গা পূজা এবং পহেলা ফাল্গুনসহ বিভিন্ন উৎসবসহ সারা বছরে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে বইয়ের হার্ড কপির পাশাপাশি এখন ইন্টারনেটে সফটকপি পড়ার সুযোগ থাকলেও ই-বুক পড়ে এমন পাঠকের সংখ্যা হাতে গোনা। এ হিসাবে দেখা যায়, ফ্যাশনের দিক থেকে মানুষ খুব দ্রুত আধুনিকতার দিকে এগিয়ে গেলেও সে হারে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী নন। অথচ একটা সময় ছিল যখন কিশোর-তরুণদের অবসর সময়ের বড় একটা অংশ কাটতো বই পড়ে। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিশু-কিশোররা বই কিনতো। কিন্তু মানুষের বই কেনার অভ্যাস কমে যাওয়ায় বর্তমানে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটসহ সারা দেশে বইয়ের দোকানের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। তার বদলে সেখানে জায়গা করে নিচ্ছে খাবার-দাবার, ফ্যাশন হাউস। এজন্য অবশ্য লেখকরাও কম দায়ী নন। এখন আর সমাজমুখী লেখা তেমন একটা পাওয়া যায় না। আর মানুষদের বইমুখী করতে রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগও তেমন দৃশ্যমান নয়। তাই ভালো মানের মননশীল বইয়ের পাঠ্যাভ্যাস কমে যাওয়ায় তরুণ প্রজন্ম জঙ্গিবাদের মতো খারাপ দিকে ঝুঁকে পড়ার ঘটনাও আমরা দেখছি। আমরা মনে করি, এ দৈন্যদশা থেকে মুক্তি ও মননশীল প্রজন্ম পেতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি লেখক-প্রকাশক, অভিভাবকসহ সবাইকে এ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগে পাড়ায়-মহল্লায়-স্কুল-কলেজে পাঠাগার ও পাঠচক্র গড়ে তোলা, ই-বুক পড়ার ক্ষেত্রে প্রচারণা এবং যাবতীয় সুযোগ সুবিধাসহ জাতীয় পর্যায়ে মানসম্মত বিভিন্ন বই পড়ার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা খুব জরুরি। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি: একটি সহনশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।








