লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৫-১৬ আজ বুধবার প্রকাশ করেছে। সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে‘সরকারের সমালোচনাকারী স্বাধীন গণমাধ্যমগুলো ‘চাপের’ মধ্যে রয়েছে। সরকার মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করছে।
ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা আক্রমণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে সরকার তাদের লেখায় ‘আপত্তিকর’ ধর্মীয় অনুভূতি রয়েছে বলে অভিযুক্ত করেছে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নয়জন ব্লগার ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, যাদের পাঁচজন নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে বলে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়। ব্লগারদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ভূমিকা নেওয়ার উপর আহ্বান জানানো হয় ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে সারা বিশ্বে মানবাধিকার হুমকির মুখে রয়েছে। তাদের মানবাধিকার জাতীয় পর্যায় থেকেই হুমকির মুখে।
সিরিয়া যুদ্ধ, শরণার্থী সঙ্কট সব কিছু্ই উঠে এসেছে ওই প্রকাশিত রিপোর্টে। এসব থেকে মুক্তি পেতে জাতিসংঘকে মানবাধিকার ও শরণার্থীদের রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করতে বলা হয়েছে অ্যামেনেস্টির প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে আরো উঠে এসেছে কমপক্ষে ১১৩টি দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত। বিশ্বের ছয় কোটির উপরে মানুষ বাসস্থানহীন।
কেউ বা দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যায় রয়েছে। ৩০টিরও বেশি দেশে অবৈধ শরণার্থীদের জোর করে দেশ ফেরত পাঠাতে গিয়ে বিপদের মুখে ফেলা হচ্ছে, ৩৬টির বেশি দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মানবাধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।
বিশ্বে কমপক্ষে ১৫৮ জন মানবাধিকার রক্ষাকর্মী নিহত বা আটক হয়েছে। বিশ্বের ৬১টি দেশের মানুষেরা যারা মতপ্রকাশ ও অধিকার আদায়ে চর্চা করেছে তাদের কারাবন্দী করা হয়েছে।
১২২টির বেশি দেশের মানুষদের নির্যাতন করা হয়েছে। বিশ্বের ১৯টি দেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত হয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশে সমলিঙ্গের বিয়ে হয়েছে। বিশ্বে ৫৫ শতাংশ দেশে অন্যায্য বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠি বলেছেন, সারা বিশ্বের মানুষ অধিকার নিয়ে হুমকির মধ্যে রয়েছে। কেউ বা রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে আবার কেউ সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু তাদের রক্ষায় দেশগুলো সরকার কোনো নিরাপত্তা প্রদান করতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বে মানবাধিকার, নিরাপত্তা, আইন সব কিছুই হুমকির মুখে। তারপরও আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ববাসীদের রক্ষা করতে হবে। মানবাধিকার আনুষঙ্গিকতা নয় মানবাধিকার একটি অপরিহার্যতা।
২০১৫ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের ১৬০টি দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের মানবাধিকার চিত্র তুলে ধরেছে।






