বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ‘সত্যের অপলাপ’ মন্তব্য করে বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসনে কসমেটিকস উন্নয়নের ফটোসেশন দেখতে দেখতে জনগণ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই সারাদেশ লুটপাট করে জনগণকে পুঁইশাকের লতার মতো শুকিয়ে মারে। আর নিজেরা নাদুস নুদুস হয়ে জোর করে ক্ষমতায় বহাল থাকে।
গতকাল ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ‘হাওরে গিয়ে ফটোসেশন করেছে বিএনপি’ এর জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, তাঁর বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্যের অপলাপ। হাওরের প্রথম আঘাতের সময় আমাদের দলের মহাসচিব হাওর এলাকায় গেছেন, সেখানে ত্রাণকাজে অংশ নিয়েছেন। গত পরশু দিন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্গত এলাকায় ত্রাণকার্য চালিয়েছেন। বিএনপি’র আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিএনপি’র জাতীয় ত্রাণকমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমানকে সুনামগঞ্জে ত্রাণকার্য চালাতে প্রশাসন বাধা দিয়েছে। এরপরও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে দুর্গত হাওর এলাকায় ত্রাণতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
সরকারী বাধা না থাকলে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ব্যাপক ত্রাণকার্য চালাতে সক্ষম হতো দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, এমনকি বেসরকারী সাহায্য সংস্থা, নাগরিক সংগঠনগুলোও সরকারে অসহযোগিতার কারণে ত্রাণ কার্য চালাতে পারছে না।
তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারকে বলতে চাই-জনগণের আহার, ক্ষুধা ও অসহায়ত্ব নিয়ে মশকরা করবেন না। দেশের সকল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন এনজিও, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ত্রাণ তৎপরতায় বাধার সৃষ্টি করবেন না।
ত্রাণ তৎপরতায় দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, দুর্গত এলাকাগুলোতে এক কোটিরও বেশি মানুষ খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ সরকার কেবল ৩ লাখ ৩০ হাজার লোকের তালিকা করেছে। সেখানেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সুবিধা পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বেছে বেছে পছন্দের আওয়ামী লীগের লোকদের তালিকা করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক বঞ্চিত হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী নেতাদেরকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেয়ার জন্যই ক্ষুধার্ত অসহায় দুর্গত মানুষকে তাচ্ছিল্য করা হলো বলে অভিযোগ করেন রিজভী আহমেদ।।








