কক্সবাজার থেকে: বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে হবে ক্রিকেটার। সংগঠক বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন শাফাক আল জাবির। খেলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ‘এ’ দল, বিসিবি একাডেমি দলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই হয়ে উঠেছিলেন পেশাদার ক্রিকেটার। বাবার দেখানো পথে হাঁটলেও নিজের স্বপ্নটা অবশ্য পূর্ণতা পায়নি বাঁহাতি এ পেসারের। ডানাটা মেললেও ওড়া যে হয়নি! চোটের কাছে হার মেনে ছিটকে যেতে হয়েছে। ‘সাবেক’ হয়েছেন ২৯ বছর বয়সেই। এখন ভাগ্যকে মেনে নিচ্ছেন সবাই ‘মাশরাফী’ হতে পারে না সান্ত্বনায়!
সাত বছর বয়সে টিভিতে ওয়াসিম আকরামের বোলিং দেখে মুগ্ধতার শুরু। সুইং, কাটার আর ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানদের শাসন করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন শাফাক, এখন তা বন্দী হয়ে গেছে বিসিবির চার দেয়ালে। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে দুই বছর ধরে চাকরি করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে। নিজের স্বপ্নের বীজ ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছেন নিরলস।
বিসিবি অফিসে কাজের ফাঁকে চোখ থাকে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজে। কখনও মনে হয়- ইশ্, যদি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারতাম! চোটকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও খেলে যাচ্ছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। নড়াইল এক্সপ্রেসের চেয়ে বয়সে তিন বছরের ছোট হয়েও শাফাক হয়ে গেছেন ‘সাবেক’ ক্রিকেটার। মাশরাফী যখন জার্সি জড়িয়ে বিসিবিতে ঘুরে বেড়ান, শাফাক তখন ফরমাল পোশাকে বসেন বিসিবি অফিসে।

অনুপ্রেরণার বড় উদাহরণ চোখের সামনে থাকতেও কেনো চোটের সঙ্গে শেষঅবধি লড়ে যেতে পারেননি?
টেবিলের ওপাশ থেকে শাফাকের নির্লিপ্ত কণ্ঠের উত্তর, সবাই ‘মাশরাফী’ হতে পারে না।
সাবেকদের টুর্নামেন্ট মাস্টার্স ক্রিকেট খেলতে শাফাক এসেছেন কক্সবাজারে। খেলছেন র’ন্যাশন্স খুলনা মাস্টার্সের হয়ে। টিম হোটেলে বসে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের নানান বাঁকের কথা। তাতে থাকল সম্ভাবনা, ভুল ও দুর্ভাগ্যের নানা অলিগলি।
ক্রিকেটে আসলেন কীভাবে?
যখন খুব ছোট, তখন থেকেই আব্বা চাইতেন ক্রিকেটার হই। রাজশাহীতে একটা ক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। যখন আট বছর বয়স, রাজশাহী ক্রিকেট ক্লিনিকে গিয়ে একটু আধটু বোলিং করতাম। শুরু থেকেই বোলিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়াসিম আকরামের বোলিং দেখে খুব ভালো লেগেছিল। মনে মনে ভাবতাম, ওরকম বোলার হবো। আব্বা মারা গেলেন ৯৭ সালে। তখন আব্বার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা চেষ্টা করলেন আম্মা। বিকেএসপিতে পরীক্ষা দিলাম। ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠেছি তখন। ওই বছর সুযোগ হয়নি। এক বছর ড্রপ দিয়ে পরেরবার ভর্তি পরীক্ষায় টিকে গেলাম। ১৯৯৮ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হলাম। এভাবেই শুরু।
পেশাদার ক্রিকেটে কখন প্রবেশ করলেন?
পরের বছরই। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে। বিকেএসপি থেকে দ্বিতীয় বিভাগ লিগে আজাদ স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেললাম। ২০০০ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে প্রথম বিদেশ ট্যুর করি। তারপর ২০০০-০১এ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সূর্যতরুণের হয়ে খেলি। ওই বছর মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছিলাম। পরেরবার এসএসসি পরীক্ষার জন্য ৫ ম্যাচ খেলিনি। ১০ ম্যাচে নিয়েছিলাম ১৫ উইকেট।
তার মানে, প্রথম বিভাগ না খেলেই সরাসরি প্রিমিয়ার লিগে?
হ্যাঁ। প্রথম বিভাগ কখনও খেলিনি।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ এল কখন?
২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলি। তখন আমার বয়স ১৬। এরপর ‘এ’ টিমে খেলেছি। ২০০৭ সালে ভারতে হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দলে স্ট্যান্ডবাই ছিলাম।
তখন আপনি বেশ আলোচনায় ছিলেন। ঘরোয়াতে যেভাবে পারফরম্যান্স করছিলেন, ভাবা হচ্ছিল জাতীয় দলে আপনি হবেন লম্বা রেসের ঘোড়া। কিন্তু শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ দলে খেলা হয়নি। যার পেছনে চোটের বড় ভূমিকা ছিল। সে গল্পটা যদি বলেন…
২০০২-০৩ মৌসুমে প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলি। তখন ১৮ বছর আমার। একেকটা ইনিংসে ৩৮-৩৯ ওভার বোলিং করেছি। ওই বছর পেস বোলারদের মধ্যে জাতীয় লিগে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলাম। ৫ ম্যাচে ২৫ উইকেট। সব বোলারদের মধ্যে স্পিনার আরাফাত সানির সঙ্গে এক উইকেটের ব্যবধান ছিল।
লংগার ভার্সনের পর ওয়ানডেতে ৫ ম্যাচে ১৬ উইকেট পাই। উইকেটের দিক থেকে প্রতিযোগিতা ছিল প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা ভাইয়ের সঙ্গে। ওনাদের টিম ফাইনাল খেলেছিল। ১৬টা করে উইকেট ছিল দুজনের। ফাইনালে দুই উইকেট পেয়ে রানা ভাই এগিয়ে যায়। ওই বছরই ব্যাক ইনজুরিতে পড়লাম। স্ট্রেচ ফ্র্যাকচার হয়েছিল। কোচের কথা না শুনলে যেটা হয়। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে বারণ করেছিলেন বিকেএসপির কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্যার। ছুটিতে থাকা অবস্থায় খেললাম।
তখন বয়স কম ছিল, বুঝিনি, ভেবেছি আমি তো ফিট। ভালো খেলিনি। পরে স্যার বকাবকি করেছিল। পরের বছর জাতীয় লিগে ম্যাচই পাইনি। তার পরের বছর ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটা খেলেছি। বেশি উইকেট পাইনি। ৯টার মতো পেয়েছিলাম। ওই বছর প্রিমিয়ার লিগ হয়নি। কর্পোরেট লিগ হল। কেবল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে এসেছি। সেভাবে কেউ তখনও চেনে না। দলবদলে দাঁড়িয়ে টিম পাইনি। তখন মনে হয়েছিল এটাই শেষ। জীবনে যদি ক্রিকেট খেলি, যতদিন পারফর্ম থাকবে খেলব। সালাউদ্দিন স্যার শেষ ঘণ্টায় আমাকে তার চলে সাইন করায়।
অবশ্য প্রথম বছর ম্যাচ পাইনি। জেদ আসছিল যেকরেই হোক ভালোভাবে কামব্যাক করব। বিশ্বকাপ খেলে এসে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হয়নি। বিকেএসপি থেকে আমার ব্যাচের সবাই বেরিয়ে গেছে। স্যারকে বললাম যেকরেই হোক ক্রিকেট থেকে বের হতে চাই না। আবার ঘুরে দাঁড়ালাম। না হলে হারিয়ে যেতাম। সালাউদ্দিন স্যার তিনটা মাস যেভাবে খেটেছে আমার পেছনে! তার কাজের বাইরে আলাদা সময় বের করে অনুশীলন করিয়েছে।
২০০৪-০৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ফিরে ৪ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিলাম। ভিক্টোরিয়ার হয়ে ১০ ম্যাচে ২৪ উইকেট। পারফর্ম করে খেলে যাচ্ছিলাম। ২০০৮এ আরেকটা ইনজুরি। তখন শোনা যাচ্ছিল ওয়ানডেতে আমার অভিষেক হবে। ঢাকাতে স্কটল্যান্ডের সাথে। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলছিলাম চট্টগ্রামে। প্রথম ওভারে রান দেইনি। বল খুব বাউন্স ও সুইং করছিল। দ্বিতীয় ওভার করার সময় বাঁ-পায়ে স্লিপ করে ডান পা’র অ্যাঙ্কেল টুইস্ট হল। বিছানায় কাটাতে হল ৬ মাস। গোড়ালিতে চিড় ধরেনি, আবার ভাঙেওনি।
শীতের দিন আসলে সেই চোট এখনও আমাকে ভোগায়। ৬ মাস খেলার বাইরে থাকার পর আবার ফিরলাম। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড আসল খেলতে। বিসিবি একাদশের হয়ে খেললাম। পরে একাডেমি দলের হয়ে সাউথ আফ্রিকা ট্যুর করেছি। ক্রিকেট বোর্ডের দলের হয়ে ওটাই আমার শেষ ট্যুর। ২০১১তে এসে আবার পিঠের ইনজুরি ফিরে এল। সিলেটে জাতীয় লিগের ম্যাচে বরিশালের হয়ে ৫ ওভার বল করে ৩ উইকেট পেলাম। ষষ্ঠ ওভারে ইনজুরি। ওই ইনজুরিটা মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। পরের বছরও খেলেছি। তার পরের দুই বছর কিছুটা নিভৃতে চলে গিয়েছিলাম।
কখন মনে হল ক্যারিয়ার শেষের পথে চলে এসেছে?
২০১৪-১৫ মৌসুমে ঢাকা লিগ শেষ করে রাজশাহী লিগ খেলতেছি, পিঠের ওই ইনজুরিটা আরও প্রকট আকার ধারণ করল। আমার এক সাইড উঠে গিয়েছিল আর এক সাইড নেমে গিয়েছিল। ডিসলোকেড হয়ে গিয়েছিল। তখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হিসেবে বোর্ডের চুক্তিতে ছিলাম না। রাজশাহীর মুন ভাইয়ের সহযোগিতায় পরে আবার ক্রিকেটে ফিরলাম। তখন ভাবনা ছিল যদি খেলতে হয় রাজার মতো খেলব। আর না পারলে খেলবই না। দুই বছর খেললেও যেন ভালো খেলি।
ওই বছর খুব কষ্ট করেছি। সুজন ভাইয়ের(খালেদ মাহমুদ, গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান) সঙ্গে আলাপ করলাম চাকরির ব্যাপারে। বললেন, খেলতেও পারতেছিস না, জমা দে। পরে গেম ডেভেলপমেন্টে সিভি ড্রপ করলাম। পরে ওই বছরের অক্টোবরে জাতীয় লিগে প্রথম ম্যাচে আমাকে খেলায়নি। কোচ বলছিলেন ট্রেনার হিসেবে হেল্প করো, সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে। যদি সুযোগ পাও খেলবা।
প্রথম ম্যাচ পেস বোলাররা ভালো করেনি। ক্যাপ্টেন মুশফিক ও জুনায়েদ ভাই নেটে বোলিং দেখে ভালো বলল। চট্টগ্রামে তামিমের উইকেটসহ ৪ উইকেট নিলাম। ৫ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েও বিসিএলে টিম পাইনি। পেসারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট পাওয়ার পরও বিসিএলে যখন রাখল না, মনটা খারাপ হল। শান্ত ভাই (হাসিবুল হোসেন) রাজশাহীতে গেল ক্লেমন একাডেমির কাজে গিয়েছিল। দেখা হওয়ার পর জানতে চাইল কোন টিমে খেলছি। খেলছি না জেনে ফারুক ভাইয়ের (তখনকার প্রধান নির্বাচক) সঙ্গে কথা বলার পর জানলাম নর্থ জোনের হয়ে খেলছি। প্রথম ম্যাচে আমার বলে ৫-৬টা ক্যাচ মিস করেছিল ফিল্ডাররা। এক উইকেট পেয়েছিলাম। পরের ম্যাচে ছিলাম না।
কক্সবাজারে পরের তিন ম্যাচও খেলায়নি। টিমের সঙ্গেই ছিলাম। খুব রাগ হচ্ছিল যখন দেখলাম আমার জায়গায় একজন নেট বোলারকে খেলানো হল। সে অবশ্য খুব ভালো করছিল নেটে। তারপর ঢাকায় আসলাম। ম্যানেজার জানাল, তুমি পরের ম্যাচে দলে নেই। চলে গেলাম রাজশাহীতে। পরেরদিন আমাকে বলল, পরের ম্যাচ খেলাবে। আবার ঢাকায় আসলাম। পরের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট পেলাম। সবসময় চেয়েছি পারফর্ম করতে করতেই খেলা ছাড়তে। বিসিএল যেদিন শেষ, সেদিন শুনলাম বিসিবিতে আমার চাকরিটা হয়ে গেছে। সামনেই প্রিমিয়ার লিগ ছিল। আর সময় নিলাম না। মনকে মানিয়ে চাকরিতে জয়েন করলাম।

ক্যারিয়ারটা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন নিশ্চয় অনেক স্বপ্ন ছিল?
ছোটবেলা থেকেই চেয়েছি টেস্ট খেলব। ওয়াসিমের চেয়ে বেশিকিছু করব। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সময় লক্ষ্য ছিল ২০০৩এর বিশ্বকাপ খেলব। লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়েছিলামও। বিশ্বকাপের আগেই ‘এ’ টিমের হয়ে কেনিয়া ট্যুর করি। ওটাই আমার ক্যারিয়ারের একমাত্র ট্যুর, যেখানে ভালো করতে পারিনি। নাইনটিন থেকে কেবল এসেছি। আমাদের সাথে খেলেছিল কেনিয়ার জাতীয় দলের সবাই। রবীন্দ্র শাহ, স্টিভ টিকোলো, মরিস ওদুম্বে ছিল কেনিয়ার ‘এ’ দলে। ওটাই ছিল আমার প্রথম লংগার ভার্সন ম্যাচ। তখনও ফাস্ট ক্লাসে আমার ডেব্যু হয়নি।
কখনও জানতে চেষ্টা করেছেন কেনো জাতীয় দলে সুযোগ দেননি নির্বাচকরা?
২০০৩ সালে ভারতে এমআরএফ বোলিং ক্যাম্পে আমাকে পাঠানো হয়। তখন ঘরোয়াতে ভালো করেও এ-দলে নাই, জাতীয় দলেও আসতে পারছি না। তখন বিশ্বকাপ খেলছে বাংলাদেশ দল। ডেনিস লিলি বলছিল তুমি নেই কেনো? মন খারাপ হয়েছিল। আসলেই তো, আমি কেনো নেই? ওই সময় স্টিভ ওয়াহ আমার পাশে বসা ছিল। তার অনেক কথা শোনার পর শেষদিকে জাতীয় দলে ঢুকতে না পারা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তুমি যখন খেলা শুরু করো, তখন কী ভেবেছিলে জাতীয় দলে খেলবে? ভাল লাগত তাই খেলতাম। বলেছিলেন ভালো লাগার জন্য খেলে যাও। পারফর্ম করে যাও দায়িত্বটা নির্বাচকদের। সেই কথার পর থেকে আজ পর্যন্ত কখনও নির্বাচকদের প্রশ্ন করিনি আমাকে কেন নেয়নি।
যখন ভালো করেছেন, তখন একের পর এক পেসার জাতীয় দলে আসছে-যাচ্ছে। অন্যদের দেখে আফসোস লাগত?
সেটা কখনই হয়নি। চাইতাম সবার চেয়ে উইকেট বেশি নিতে, এটুকুই। ৪৯ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৮১ উইকেট। ইকোনমি ৩.৭৩। এটা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ৪৩ ম্যাচে ১২৫ উইকেট। সবসময় সেরা দশ বোলারের মধ্যে থাকতাম। পরিসংখ্যান দেখলে এখন আর খারাপ লাগে না। যতটুকু খেলেছি সেই পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট আছি।
মাশরাফী তো ইনজুরি জয় করে খেলে যাচ্ছেন। আপনি হাল ছেড়ে দিলেন কেন?
হাতের পাঁচটা আঙুল সমান না। সবাই মামলাফীও না সে অনেক চ্যালেঞ্জিং আমি হয়ত ওই চ্যালেঞ্জ নিতে পারিনি। জাতীয় দলে যদি থাকতাম রিওয়ার্ডটা যদি পেতাম। সবাই মাশরাফী হতে পারে না। ওয়াসিম আকরামের ১৩টা সেলাই সে খেলেছে। মাশরাফী মাশরাফীই।
এখন ‘সাবেক’ শব্দটা শুনতে কেমন লাগে?
দুই বছর হেয়ে গেল চাকরির বয়স। এখনও মনে হয় আমি খেলোয়াড়। অনূর্ধ্ব-১৮’র চ্যালেঞ্জ সিরিজ হল চট্টগ্রামে, তখন অনেকে বলছে স্যার। আমি বলি আমি স্যার না, তোমাদের বড় ভাই। এখনও মিরপুরে খেলা হলে রুমে বসে থাকি একটা বল হাতে নিয়ে। মেনে নিতে পারি না। তবুও বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
যে ভুলগুলো ছিল তরুণদের সঙ্গে সেটি শেয়ার করেন?
জানি আমার লাইফে কী ভুল করেছি। আরেকটু কষ্ট বেশি করলে সাকসেসটা হয়ত পেতাম। হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম হয়ত। এখনও চেষ্টা করি, যে ভুল করেছি তারা যেন সেটা না করে। সবসময় স্বীকার করি ভুল আমারই ছিল। কোনো কিছুর প্রতি দোষারোপ করি না।
ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে দেখা হয়েছিল?
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নেটে তার সঙ্গে বোলিং করার সুযোগ হয়েছিল। বিকেএসপিতে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল। ওনাকে একজন বলছিল আমি তার ভক্ত। তখন ওয়াসিম বোলিংয়ে আসতে বলেছিল। বিকেএসপির এক নম্বর গ্রাউন্ডে টিপস দিয়েছে। বলেছিল, বিশ্বকাপে গিয়ে কি করবা? বলেছিলাম ইয়র্কার মারবো। বলল করো দেখি। তিনটা বলের মধ্যে দুইটা ইয়র্কার হয়েছিল। সে একটা করে দেখাল। ওই বল খেলতে গিয়ে পাকিস্তানের এক ব্যাটসম্যান ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে গেল। তখন ওয়াসিম বলল, আমি ২০ বছর শিখে এসে এখনও পারফেকশন আনতে পারিনি। তুমি ২-৩ বছর খেলে কীভাবে পারবে। আরও সময় লাগবে। বলল, ওয়ানডেতে ইয়র্কার আর স্লো-বলের ভ্যারিয়েশন থাকতেই হবে।










