খুনের শিকার হওয়া মৃত মায়ের দুধ পান করে সবার মনকে বেদনাহত করেছিলো এক বছরের শিশু কন্যা জনি। এখন কেমন আছে সেই শিশুটি?
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মরিচা গ্রামের একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে সে। এখন ডাক্তার বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জনি। নিজ মুখেই বলে, এজন্য প্রয়োজন কলম, খাতা, আর অর্থের।
মরিচা গ্রামের সেই আলোচিত শিশু কন্যা জনি এখন এমনই স্বপ্ন দেখে। কিন্ত ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর শুক্রবারের ভোরটা তার জীবনের জন্য যে মর্মান্তিক ছিল তা বোঝার বয়স ছিল না ফুলের মত ফুটফুটে নিস্পাপ শিশুটির। তবে লাঘাটা নদীর পূর্ব তীরের সেদিনের মর্মান্তিক ঘটনা আজও ভুলতে পারেনি প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সেদিনের ঘটনাটির ভিডিও প্রথম মোবাইলে ধারণকারী বলেন, ‘আমি দেখলাম উত্তর দিকে মাথা দিয়ে মৃতদেহটি পড়ে আছে। আর তার বুকের ওপর শুয়ে মায়ের দুধ পানের চেষ্টা করছে বাচ্চাটি। সে দুধ না পেয়ে কাঁদছে, আর পাশে সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে।’
সেদিন প্রবাসী মাসুদ মিয়ার স্ত্রী ৩ সন্তানের মা রুবি বেগমের মরদেহ ও তার এক বছর বয়সের শিশু কন্যা
জনিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেসময় শিশু জনির মৃত মায়ের দুধ পানের ব্যর্থ চেষ্টা গ্রামবাসীকে হতবাক করে।
ওই মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন প্রচার হয় দেশের প্রথম ডিজিটাল বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ে। লেখালেখি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ওই ঘটনায় স্তম্ভিত হন বিবেকবান মানুষ। সহমর্মিতার পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইমিগ্রেশন এইডসহ অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন। নানীর কোলে বেড়ে ওঠা দুর্ভাগা শিশু জনিকে বিদেশ থেকে ফিরে নিজের ঘরে নিয়ে আসেন বাবা মাসুদ মিয়া।
মাসুদ মিয়া বলেন, কে মেরেছে, কীভাবে মেরেছে আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। কেউ ধরা পড়েনি। প্রশাসন ধরতে পারেনি।
‘কিছু অসুবিধার কারণে আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমি আসতে পারিনি,’ বলেন জনির বাবা, ‘কিন্তু এর সাড়ে তিন বছর পর আমি এসেছি এবং আমার মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছি। আমি যেহেতু বিদেশে ছিলাম,
আমার মেয়েকে কারও খাওয়ার টাকা দিতে হবে না। আমার মেয়েকে আমিই পালতে পারব।’
সাড়ে ৮ বছর বয়সের জনি এখন গ্রামের মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। মায়ের মৃত্যুর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলেও ওই সংসারে জনির এখন আর কোনো কষ্ট নেই। মায়ের কথাও নাকি তার স্মরণ নেই। মায়ের জায়গায় স্থান দিয়েছে নানীকে। পরিবারের সবাই তাকে মায়া করে, ভালোবাসে – এমনটাই বলল জনি।
রুবি হত্যার ঘটনায় যে মামলা হয়েছিলো সে মামলায় এখনো আদালতে চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। তাই বিচারও শুরু হয়নি। তবে এতোকিছু না বোঝা শিশু জনির চাওয়া একটাই, কষ্ট থেকে দূরে থাকা। যে কষ্ট নিয়েই তার বেড়ে ওঠা, পথচলা।







