নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পরই টেলিভিশন বন্ধ করে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন শফিউল ইসলাম। চোট নিয়ে শুরুতেই তামিম ইকবালের মাঠ ছেড়ে যাওয়া, হাসপাতালে যাওয়ার খবর, পরে টেলিভিশনের ক্যামেরায় স্লিংয়ে ঝোলানো হাত দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশের ইনিংস ওখানেই শেষ! রাস্তায় নেমে যখন দেখলেন দোকানে জটলা বেধে লোকজন খেলা দেখছেন তখন উপলব্ধি করলেন, দ্বিতীয়বার ব্যাট হাতে নেমেছেন তামিম।
তামিমের দীর্ঘদিনের সতীর্থ শফিউল রোববার মিরপুরের একাডেমি মাঠে এসে শামসুর রহমান শুভ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সোহাগ গাজী, মিজানুর রহমান, শাওন গাজীদের কাছে আগের রাতের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। শফিউলের মতো অনেকেরই হয়তো হয়েছে এমন অভিজ্ঞতা। তাদের সবাই বলছেন, এই কাজের মাধ্যমে সবাইকে জাগিয়েছেন তামিম।
শনিবার দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দলের প্রয়োজনে তামিমের আত্মনিবেদন অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে নাড়া দিয়েছে সবার মনে। ক্রিকেট ক্যারিয়ার হুমকির মুখে রেখেও ব্যাটিং করার যে ঝুঁকি নিয়েছেন এ ব্যাটসম্যান তাতে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
দলের জন্যে তামিমের নিবেদন দেখে জেগে উঠেছে সাইডবেঞ্চও। যে কোনো মুহূর্তে দলের জন্য অবদান রাখার প্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন অভিজ্ঞরা থেকে শুরু করে তরুণরাও।
টেস্ট ক্রিকেটার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভাবিনি যে তামিম ভাই ব্যাটিংয়ে নামবেন। প্রত্যাশাও করিনি। তার সুস্থতাই বেশি কামনা করেছি। তামিম ভাই যে কাজটা করেছেন তা শিক্ষণীয় ব্যাপার। দলের প্রতি, সতীর্থের প্রতি যে ভালবাসা দেখলাম সেটি আমরা যারা জুনিয়র আছি ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’
টেস্ট দলের নবীন সদস্য আবু জায়েদ রাহি বলেন, ‘মনে হয়েছিল উনি নামতে পারবেন না মাঠে, নামার পর খুব ভালো লাগছিল। জুনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য এটা অনেক শিক্ষণীয়। শিখেছি দলের জন্য অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হয়।’
একটা সময় তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা আছে শামসুর রহমান শুভ’র। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে যে সিনিয়র ক্রিকেটাররা আছেন তারা সবসময় স্পেশাল কিছু করতে চায় এবং সেটি না পারলে তারা অপমানবোধ করেন। তারই একটা নজির আমরা দেখেছি তামিমের মাঝে। যারা ক্রিকেট ভালোবাসে, খেলতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই ঘটনা প্রেরণা যোগাবে। আমরা কেন পারব না, তরুণদের মাঝে এই বোধ জাগবে। সামনে যারা বাংলাদেশ দলে খেলবে তাদের জন্য অনেক উৎসাহের ব্যাপার।’










