দেশের সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনানুসারে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ অর্থ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও শ্রেণীর জনগণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে প্রায় তিন ডজনের বেশী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মোট নৃ-গোষ্ঠী ৩০ লাখ ৮৭ হাজার, এর মধ্যে সমতলের নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা ১৫ লাখ। বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে অতীতে নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত এসব মানুষ বৈষম্যের শিকার হলেও ২০১০ সালের পর থেকে একটি সুষ্ঠু ধারায় আসতে শুরু করেছে তারা। সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটাসহ উচ্চ শিক্ষায় এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে অগ্রাধিকার। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগোষ্ঠী শিক্ষিত হলেই দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে। দেশের কোন অঞ্চলের একজন মানুষও যাতে অবহেলিত না থাকে সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। ১৯৯৬ সালে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এবং নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ ও সরকারের কর্মসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেন। মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রসারে নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় পাঠ্য বই ছাপা এবং যেসব ভাষায় বর্ণমালা নেই সে সব ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা বর্ণমালায় মাতৃভাষায় পাঠ্যবই ছাপানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার পাশপাাশি নিজ নিজ সংস্কৃতি ও পেশা বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংখ্যার বিচারে বৃত্তিপ্রাপ্ত নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও এই উদ্যোগ নৃ-গোষ্ঠীর আরও কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের মনোবল চাঙ্গা করবে ও ভরসা যোগাবে বলে আমরা মনে করি। বৃত্তির অর্থে উপযুক্ত শিক্ষা শেষে মূলধারার কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হবার সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে তারা। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের পরিধি আরও বড় করতে সংশ্লিষ্টরা পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করছি। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সম্মিলনে সৃষ্টি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ছোট-বড় সবার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হোক, এই আমাদের প্রত্যাশা।







