একবছর ধরে কর্মহীন হয়ে থাকা সন্তানকে চাকরির বিনিময়ে একজন পেনশনভোগী বাবা ৫ হাজার ইউরো খরচের ইচ্ছা প্রকাশ করে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। স্পেনের জারাগোজার স্থানীয় পত্রিকায় তা প্রকাশ হওয়ার পর ২০ টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিয়েছে।
উত্তর-পূর্ব স্পেনের জারাগোজার অধিবাসী এই পিতা তার ৩৯ বছর বয়সী পুত্রের চাকরির জন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়, শিক্ষিত, দায়িত্ববান, পরিশ্রমী এবং ভালো পেশাগত রেকর্ড থাকা বেকার সন্তানকে যে প্রতিষ্ঠান চাকরিতে নিয়োগ করবে সেই প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার ইউরো প্রদান করবেন পেনশনভোগী এই পিতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পিতা একজন অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী। পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের জনক তার পুত্রের কাজের জন্য অনেকগুলো সাময়িক চুক্তি ছিলো যার মধ্যে শেষ চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে।
তিনি বলেন, ছেলেকে এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি দিতে তার আবেদনের সাড়ায় চাকরি বা শুধুই চাকরির সুযোগ করে দিলেও তিনি সন্তুষ্ট।
ওই পিতা জানান, ইতিমধ্যে সাড়া দেওয়া ২০ টি প্রতিষ্ঠানের একটিও অর্থের ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি। শুধু তার ছেলের জীবন বৃত্তান্ত চেয়েছে।
সন্তানের সাথে আলোচনা না করেই তিনি বিজ্ঞাপনটি দিয়েছেন। তবে তার ছেলে বিজ্ঞাপনটি দেখে রেগে গেছে। কারণ সে ভয় পায় তার পরিচয় কেউ জেনে যাবে। সেটা তার কাছে খুবই লজ্জাকর। তবে তার পিতাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পিতা বলে অভিহিত করেছে।
স্পেনে বেকারের সংখ্যা মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির ২৩ শতাংশের কাছাকাছি। প্রায় ৫০ লক্ষ লোক কোনো ধরণের কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। আগস্ট মাসেই ১ লাখ ৩৪ হাজার চাকরি কমে গেছে। গত সোমবার পর্যটন এবং অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানে সাময়িক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে বেকারত্বের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর ফলে তিন লাখ ৩৩ হাজার ১০৭ জন কর্মহীন হয়ে যায়। একদিনে চাকরি হারানোর এমন ভয়াবহ ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি স্পেনে।
দেশটির দুইবারের মন্দার সময় পেনশনভোগীরা তিন প্রজন্মের প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করছেন। কমিশনস অবরেরাস ট্রেড ইউনিয়নের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বয়স্কদের পেনশন ছিলো গৃহস্থালী ব্যয়ের মাত্র ২০ শতাংশ। অনেক স্পেনের অধিবাসীরা তাদের প্রয়োজন মেটাতে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদীর কাছে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ওই বিজ্ঞাপন দাতা পিতা বলেন, তার অন্য চার সন্তানও তাদের প্রয়োজন মতো অর্থ উপার্জন করতে পারে না। আগে আমরা নাতি নাতনিদের লালন পালনে সহায়তা করতাম, অথচ এখন আমাদের সন্তানদেরও সহায়তা করতে হচ্ছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান






