মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে নৌ পথে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসা রোহিঙ্গাদের পড়তে হচ্ছে সমুদ্রের অতল জলে। বাবা হারিয়েছে তার সন্তানকে, সন্তান হারিয়েছে তার মাকে, মা হারিয়েছে তার নবজাতক শিশুকে। কক্সবাজার, এ যেন এক মৃত্যুর নগরী। গত এক সপ্তাহে নাফ নদীতে ভেসে উঠেছে ৫৫ জনের মৃত দেহ। তাদের মধ্যে শিশু এবং নারী। নাফ নদীতে ভেসে থাকা শিশুর মুখখানি দেখে চোখে পানি আসেনি, এমন একজন মানুষও কি আছে? না নেই। সবাই আমরা কেঁদেছি, ছোট্ট মানুষটির নিথর দেহখানি দেখে। প্রত্যেকেরই চোখে ভেসে উঠেছে তার প্রিয় শিশুর মুখ, তাদের সন্তানের মুখ।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি’র বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলম রয়েছেন এখন কক্সবাজারে। তিনি কাছ থেকে দেখেছেন স্বজন হারানো মানুষের হাহাকার। শুনেছেন প্রিয়জন হারানো মানুষের নিথর হওয়ার কান্না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের এই ভাবনার কথা জানান।
তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে নৌকায় চড়ে ওপার থেকে নাফ নদী পার হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তীরে আসার আগেই প্রচন্ড ঢেউয়ে ডুবে যায় নৌকাটি শাহ পরীর দ্বীপে আজ। কোল থেকে ছিটকে ছেলে ডুবে যায়। ছেলে আর বেঁচে নেই, কান্না ভুলে যাওয়া মা শেষ চুমু খান সন্তানের চোখে, মুখে। পেছনে ফেলে আসা জীবন, পুড়ে যাওয়া ঘর আর স্বপ্ন যেন এক হয়ে গেছে। লক্ষ মানুষের আহাজারি, আক্ষেপ আর অভিশাপে কেমন গুমোট হয়ে আছে টেকনাফ, উখিয়ার চারপাশ।







