বিশ্বে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যে রোববার বিকালে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) যখন নিশ্চিত করে বাংলাদেশেও এই ভাইরাস এসে গেছে। প্রথমবারের মতো যার শিকার হয়েছে তিনজন। বলতে গেলে তারপর থেকেই মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ছিল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের কি হবে?
কয়েকঘণ্টার মধ্যেই দেশের মানুষ সেই প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে যায়। রাতেই জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাসের কথা জানায় জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সবচেয়ে বড় আয়োজন মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা জানানো হয়। অন্য আয়োজনগুলোও ক্ষুদ্র পরিসরে উদযাপিত হবে বলে সিদ্ধান্ত আসে।
মূলত করোনা ভাইরাসের কারণে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে বড় জনসমাগম হবে, এমন অনুষ্ঠানগুলো আপাতত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারই চেয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সীমিত আকারে উদযাপন করতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, জনগণ যেন কোনো ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখেই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। কেননা জনগণের কল্যাণই তার কাছে সবচেয়ে বড়। আমরাও তাই মনে করি, একজন সরকার প্রধানের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তার জনগণের স্বার্থ। তিনি সেই জনস্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এ জন্য নিঃসন্দেহে তিনি প্রশংসার দাবিদার।
যদিও আমরা দেখেছি, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির ওই ঘোষণার আগে মুহূর্ত পর্যন্ত কিছু মানুষ নানাভাবে এর সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করে। এমনকি তাদের অনেকেই বলার চেষ্টা করেছে, ‘দেশে কেউ কেউ করোনা ভাইরাসে আগেই আক্রান্ত হয়েছে; কিন্তু মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য তা গোপন রাখা হয়েছে।’
কিন্তু তাদের সেই অপপ্রচার ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারের লুকোচুরি নেই। আমরা মনে করি, ক্ষুদ্র পরিসরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা সঠিক এবং সময়োপযোগী।







