রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ খুন হওয়ার ৩০ বছর পর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় চার আসামি জড়িত উল্লেখ করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার ২৫ জন তদন্ত কর্মকর্তার হাত বদলের পর ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই।
দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি জানান, ১৯৮৯ সালে ২৭ জুলাই পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ভাড়াটে খুনী মারুফ রেজাকে ২৫ হাজার টাকায় খুনের জন্য ভাড়া করা হয়। যা কিনা বর্তমান সময়ের মূল্যে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। যদিও হত্যাকাণ্ডের আগে মারুফ রেজা ১৫ হাজার টাকা দিলেও পরে আর বাকি দশ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও নিহতের বড় ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে দাখিল করবে পিবিআই। এরমধ্যে পিবিআইয়ের ৬০৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট। বাকি পৃষ্ঠা পূর্বের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের।
বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, ঘটনার পুরোপুরি ৩০ বছর পর মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তভার পাওয়ার পর তিন ধাপে মোট ছয়মাস পর চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এটিকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকাণ্ডে ৪ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে।
মামলার আসামিরা হলেন- নিহতের বড় ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, বড় ভাসুরের স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি ও ডা. হাসানের রোগী মারুফ রেজা।
১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন সগিরা মোর্শেদ। পিবিআই দীর্ঘদিনের মামলাটি দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে বলে জানান বনজ কুমার।

তিনি আরও বলেন, মামলটি যখন পিবিআইয়ের কাছ আসে তখন আমরা বিয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিই। তদন্ত করতে গিয়ে আমরা জানতে পারি নিহত সগিরা মোর্শেদের পরিবারের সঙ্গে আসামি শাহীনের বিভেদ তৈরি হয়। এরমধ্যে রয়েছে শাহীন তার তিন তলার বাসা থেকে সগিরা মোর্শেদের রান্না ঘর ও বারান্দায় ময়লা ফেলত। এছাড়া শ্বাশুড়ি সগিরাকে অনেক পছন্দ করত এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সগিরা-শাহীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিলো।
বনজ কুমার মজুমদার জানান, সগিরার কাজের মেয়ে জাহানুরকে মারধর করে ডা. হাসান আলী চৌধুরী। এই নিয়ে পারিবারিক বৈঠকে শাহীন সগিরাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আসামিদের নিয়ে রাজারবাগ বাসার তৃতীয় তলায় সগিরাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডা. হাসান আলী তার চেম্বারে আসামি মারুফ রেজার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি করে। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মারুফ রেজা ও আনাস মাহমুদ প্রকাশ্য দিবালোকে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করে।
এই ঘটনায় ২৫ জন কর্মকর্তা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান। মামলা চলাকালে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি কেউ। এদের মধ্যে একজনকে অভিযুক্ত করে একবার চার্জশিট দেয়া হয়েছিল। পিবিআই’র চার্জশিটে ইতোপূর্বে অভিযুক্ত সকলকে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ চার্জশিট তৈরি হলেও ৩০ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, মোটরসাইকেল, নিহতের পোশাক ও রিকশা উদ্ধার করতে পারেনি পিবিআই।









