বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির জন্ম স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়নি এবং জিয়াউর রহমানও রাজনীতিতে এসেছেন ক্ষমতা দখল করেই, এমনকি ক্ষমতায় থাকতেও নানা ষড়যন্ত্র করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের হত্যা করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। বিএনপির এই ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এখনও বহাল।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও দেশের মানুষকে তেমন কিছু দিতে পারেনি। বরং আমরা দেখেছি কীভাবে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়, হাওয়া ভবন খুলে লুটপাট হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট এক হয়ে সবসময় দুর্নীতি করে, দুঃশাসন চালায়, রাজাকারদের জিয়াউর রহমানের মতোই রাজাকার-আলবদরদের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন করাসহ নানা অপকর্ম করে।
বিএনপির সঙ্গে দেশবিরোধী চক্রের সখ্যতা যেন অচ্ছেদ্য। ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি দীর্ঘদিন কোনো অান্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বরং উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। খালেদা জিয়া আমেরিকার একটি দৈনিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে কলামও লিখেছিলেন।
বেগম জিয়া বিভিন্ন সময়ে তার লেখা ও বক্তৃতায় ভারতের বিরোধিতা করেছেন আবার ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা না করে ঠিকই তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন এবং সেখানেও অযৌক্তিক বক্তব্য লিখিতভাবে পেশ করেছেন, যদিও ইতিহাস বলে বিএনপির রাজনীতি ভারত বিরোধিতার রাজনীতি। 
আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি সত্যকে অসত্যে পরিণত করতে বিএনপি ও জামায়াত জোট সবসময় ব্যতিব্যস্ত। ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করে রাজনীতি করা যায় না, বিএনপি জামাত ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা করে অতীতে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করলেও মানুষ এখন ডিজিটাল যুগে বাস করছে, সত্যকে মিথ্যা বানানোর দিন শেষ। কিন্তু, বিএনপি এই অপচেষ্টা থেকে সরে আসেনি, তাদের কথা ও কাজে কোন মিল না থাকলেও মিথ্যা প্রচার ও অপচেষ্টায় তারা সবসময় সবাই যেন সিদ্ধহস্ত।
সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট, সংক্ষেপে আইসিসি) বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে করা বিএনপি-জামায়াতের অভিযোগ নাকচ হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও যে আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশেকে নিয়ে, আমাদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তা জাতির সামনে ভালভাবে প্রকাশ পেল।
২০১৩ সাল থেকে জামায়াত-বিএনপি চক্র আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করে আসছিল। এ ব্যাপারে আইসিসির একজন প্রসিকিউটর ফাতোউ বেনসউদা নিজেই সম্প্রতি এক চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অথচ ২০১৩, ২১০৪ ও ২০১৫ সালে সারাদেশে সন্ত্রাস, তাণ্ডব সহিংসতা করেছে, পেট্রোলবোমা দিয়ে মানুষ মেরেছে বিএনপি-জামায়াত। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের অবরোধে বিএনপি-জামায়াত ১৩৫ জন মানুষকে হত্যা করেছে।
নির্বাচনের দিন তারা ২৬ জনকে হত্যা করে, সারাদেশে ৫৮২ টি স্কুলে আগুন দেয়, প্রিসাইডিং অফিসারকে হত্যা করে, ৪ জন সংখ্যালঘুকে হত্যা করে। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ২০ জনকেও তারা হত্যা করেছিল। এখানেই শেষ নয়, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরেও কয়েকমাস অবরোধ আন্দোলনের নামে তাদের সহিংসতা অব্যাহত রাখে। বিএনপি-জামায়াতের এই তাণ্ডব আবার শুরু হয় ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে, ৪ মাসে তারা ১৫৭ জনকে হত্যা করে, ১ হাজার ১৮০ জন আহত করে এবং ২,৯০৩ টি গাড়ি, ১৮টি রেল গাড়ি ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেয়।
এসব করে তারাই আবার উল্টো আর্ন্তজাতিক আদালতে দেশের সরকারে বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, কিন্তু সেখানেও তারা মিথ্যাচারের জন্য পরাজিত হয়েছে। এতে স্পষ্টতই বোঝা যায় জামায়াত-বিএনপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচারে লিপ্ত, দীর্ঘ ক্ষমতার বাইরে থেকে দেশের এগিয়ে যাওয়ায় শামিল হতে না পেরে উল্টো মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়- কিন্তু কোন ফল হয়নি, সত্য সবসময়ই জয়ী হয়।
দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, ভারতের বিজেপি প্রধানের ফোন করা নিয়ে মিথ্যাচার, ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের বিবৃতি দেয়া নিয়ে মিথ্যাচার। ৬ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতিতে জড়িত ছিল বিএনপির লন্ডন শাখার (?) একজন উপদেষ্টা জাহিদ এইচ সরদার সাদী যাকে এই অপকর্মের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে যেতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে অনেকটা নাটক করে সাদীকে বহিষ্কার করলেও এই ব্যক্তিই আবার মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
পাশাপাশি ইসরায়েল লিকুদ পার্টির নেতার সাথে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের বৈঠকের কথা ইসরায়েল এর নাগরিক নিজেই সাক্ষাতকারে স্বীকার করেছেন এবং গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলেছেন। এখানে অবশ্যই ষড়যন্ত্র আছে যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। এই সাদী নামের ব্যক্তিটি আবার প্রথমে নিজে এবং পরে ‘বিবিসি বাংলা’ অনলাইনকে ফাঁদে ফেলে নতুন নাটক মঞ্চস্থ করে নিজের নগ্ন চেহারা প্রকাশ করেছে।
এতে দলের হাইকমান্ডের সম্পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে তাদের নির্দেশেই এসব চলছে। তবে ‘বিবিসি বাংলা’ অনলাইনে এমন অসত্য নির্জলা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ সত্যিই হতাশাজনক। উল্লেখ্য যে বিবিসি বাংলার মূল প্রতিষ্ঠান বিবিসি আগেও ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
এটা দ্বিধাহীন ভাষায় বলা যায় বর্তমানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই করুণ, কাউন্সিল হবার পরও কয়েকটি পদ বাদে কমিটি দিতে পারেনি, এমনকি প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হচ্ছে, দলের ভেতরে-বাইরে অস্থিরতা, জাতীয় নির্বাচনে না এসে হতাশায় নিমজ্জিত তৃণমূল নেতৃ্ত্ব।
আন্দোলনে ব্যর্থ হলেও আসলে তলে তলে তাদের ষড়যন্ত্র যে অব্যাহত ছিল তা আসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে জাতির সামনে চলে আসে। আর যু্দ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের সামনে কোন ইস্যু নেই কিন্তু বিএনপির নেতৃবৃন্দের দুর্নীতি আর অপকর্মের বিচার চলমান রয়েছে ফলে এসব থেকে সকলের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ক্ষমতায় যাবার পথ পরিষ্কার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সব গুমোড় ফাঁস হয়ে গেল।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মর্যাদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর সাম্প্রতিক প্রমাণ হল জি-৭ এর আউটরিচ সম্মেলন, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ঠিক এই সময়েই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে বিএনপি ও তাদের জোট বাংলাদেশকে হেয় করতে তৎপর।
এমনকি মুসলিম উম্মার শত্রুকেও তারা বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না, নিজেদের অপরাজনীতি, অপকর্ম ঢাকতে, মানবতাবিরোধীদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্রকে করে কেউ কোন সুবিধা করতে পারবে না। আর মিথ্যা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সেটা কিন্তু বারবার ধরাশায়ী হয়ে নিজের দিকেই টেনে নিচ্ছে বিএনপি, অনেকটা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতোই, বিএনপির কান কাটা বলে অন্যদের কান কাটতে হবে সে চক্রান্ত করে বিএনপি লাভবান হতে পারবে না।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







