হাত খুলতে চাওয়া সাকিব ফিরে গেলেন। ঝড় তুলতে যেয়ে ফিরে গেলেন তামিমও। তখনো ১৩ বল বাকি, তিনশ ছুঁতে ১১ রান চাই। সেটা হওয়ারই ছিল। কিন্তু শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকে সংগ্রহটা তিনশ পেরিয়ে আরো অনেকটা দূরই গেল। তাতে বাংলাদেশের নামের পাশে বসল অনেকগুলো প্রথমের অর্জন!
ডাম্বুলায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে বাংলাদেশ তুলেছে ৩২৪ রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তো প্রথমবার তিনশ রান করার অভিজ্ঞতাই।
২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মোহালিতে করা ২৬৫ রানের সংগ্রহটি ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ। আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগের সর্বোচ্চ সংগ্রহটি ছিল তারও আগের, ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় করা ২৫৯!
সব মিলিয়ে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকায় করা ৬ উইকেটে ৩২৯ এবং ২০১৪ সালে ৩ উইকেটে ৩২৬ রানের ইনিংস দুটিই কেবল শনিবারের সংগ্রহটির চেয়ে এগিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যার প্রথমটিতে ৭৯ রানে জিতলেও পরেরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘশ্বাস। এশিয়া কাপে ৩২৬ করেও যে ৩ উইকেটে ম্যাচ হাতছাড়া করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের দলকে।
সব মিলিয়ে তিনশর ওপরে লক্ষ্য দিয়ে বাংলাদেশ হেরেছে কেবল একবারই। আর পাঁচবারে চারবার আছে জয়ের অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে লঙ্কানদের। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে টাইগারদের ২৬০ রান ৭ উইকেট হাতে রেখে টপকেছিল লঙ্কানরা।
ডাম্বুলার সংগ্রহটি নিয়ে অবশ্য আশাবাদীই হতে পারেন মাশরাফিরা। রণগিরি মাঠে তো বটেই, শ্রীলঙ্কার মাটিতেই ২৯০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই কোন দলের। সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটি ২৮৯! ২০০৯ সালে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ওই লক্ষ্য পেরোতে ৪ উইকেট খরচ করেছিল শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাটিতে এটাই আবার এখন পর্যন্ত লঙ্কানদের সবচেয়ে বেশি রান তাড়ার কীর্তি।
সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে ৩০০-এর বেশি রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কা মোট ৮বার জিতে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। যার সর্বোচ্চটিও শনিবারের সংগ্রহের চেয়ে কম, ৩২২ রান! ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের দেওয়া সেই লক্ষ্যে ৮ উইকেটে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।
তাসকিন-মোস্তাফিজরা এটা জেনে একটু আয়েশি না হলেই হয়। তাতে জয়ে সিরিজ শুরু করা সময়ের ব্যাপারই হয়ে দাঁড়াতে পারে কেবল।








