এশিয়া কাপের দ্বিতীয় দিনের খেলায় বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
নিউজিল্যান্ডের পর ভারতের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের ক্ষত নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখলেও আমিরাতের বিপক্ষে ছন্দে ফিরতে চায় লঙ্কানরা। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
ভারতের বিপক্ষে লঙ্কান দলে ছিলেন না দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা, ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, স্পিনার রঙ্গনা হেরা ও পেসার নুয়ান কুলাসেকারা। তারা সবাই দলে ফিরেছেন। এই দলই আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলার চেষ্টা করবে।
লঙ্কান দুই মহারথী মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা অবসর নেওয়ার পর কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়ে দল। তবে ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে এখনো ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই মনে করা হয় শ্রীলঙ্কাকে। তিলেকারত্নে দিলশান, দিনেশ চান্দিমাল, ম্যাথুস ও চামারা কাপুগেদারাকে নিয়ে ব্যাটিং অর্ডার বেশ শক্তিশালী।
বোলিংয়ে রয়েছেন অলরাউন্ডার ধানুশ সানাকা, থিসারা পেরেরা, স্পিন অলরাউন্ডার সিহান জয়সুরিয়া ও মালিন্ডা সিরিবর্ধনে। আছেন দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ ও সুচিত্রা সেনানায়েক। আলো ছড়াতে পারে নবাগত জেফরি ভ্যানডারসিও।
আমিরতের বিপক্ষে ম্যাচে দেখার বিষয় কীভাবে দলের পেস ও স্পিন অলরাউন্ডারদের ব্যালান্স করে। জয়সুরিয়া ও সিরিবর্ধনে পাশাপাশি কাপুগেদারাকে কোন পজিশনে খেলায় সেটা দেখার বিষয়।
কোয়ালিফাইং পর্বের তিন ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করে অপরাজিত থাকলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি আমিরাতের জন্য পরীক্ষাই হবে। পরীক্ষা হবে অভিজ্ঞতার সঙ্গে উঠতি শক্তির। টানা তিন ম্যাচ জিতলেও এবার কোনো সহযোগী দেশের বিপক্ষে নয়, বলা চলে বড় ভাইয়ের বিপক্ষে খেলতে নামছে তারা। ম্যাচে আমিরাতের অন্যতম শক্তি হিসেবে দলে থাকা রোহান মুস্তাফা, মুহাম্মদ কালিম, মুহাম্মদ উসমান, মোহাম্মদ নাভেদ ও সাইমান আনোয়ার।
শক্তি আর সাফল্যের বিচারে দুই দলের পার্থক্য বিস্তর। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে লঙ্কানদের অবস্থান পাঁচে। আর আমিরাত রয়েছে ১৫ নম্বরে। এই দুদল অবশ্য টি-টোয়েন্টি ফরমেটে এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি। দুই ওয়ানডের সাক্ষাতে শতভাগ জয়ের রেকর্ড লঙ্কানদের। ২০০৪ সালের প্রথম ম্যাচে ১১৪ রানের জয়ের পর ২০০৮ সালের ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে ১৪২ রানে হারায় লঙ্কানরা।
আমিরাতের জন্য ভয়ের কারণ আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড। সহযোগীদের বিরুদ্ধে সবসময়ই খড়গহস্ত লঙ্কানরা। তাদের ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ডাচদের বিপক্ষে ৪৪৩ রানে করেছিল তারা। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটেরও সর্বোচ্চ স্কোর। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে কেনিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর ২৬০ রান। এই অতীত ইতিহাসই কাল হতে পারে আমিরাতের।
সবদিকে পিছিয়ে থাকলেও একটা জায়গায় এগিয়ে রয়েছে আরব আমিরাত। সর্বশেষ জয়-পরাজয়ের হিসেবে অনেক এগিয়ে মরু দেশটি। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা। বিপরীতে পাঁচটিতে আমিরাতের হার মাত্র একটিতে। মিরপুরের ভাগ্য অবশ্য লঙ্কানদের পক্ষে। এই মাঠেই ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে লো-স্কোরের ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লাসিথ মালিঙ্গার দল। এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের প্রেডিকশনে শ্রীলঙ্কা-আমিরাতের অনুপাত ৬ :১।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মিরপুরের পিচ সবুজ হবে। পিচে ঘাসের সঙ্গে মিডিয়াম গতির থাকতে পারে। আগের দিন বৃষ্টি নামার পর আজও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুদলই আশা করবে কোনো বাধায় যেন এই ম্যাচে পণ্ড না হয়।
এই ম্যাচে যারা স্পটলাইটে থাকবেন এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় অবশ্যই লাসিথ মালিঙ্গা। গত নভেম্বরের পর আর ক্রিকেট না খেলায় বেশ তরতাজাই রয়েছেন তিনি। মালিঙ্গার তরতাজা ফিটনেস ও এই ফরমেটে তার অভিজ্ঞতাই পরীক্ষায় ফেলতে পারে আমিরাতকে। এছাড়া ওপেনিংয়ে দিলশান ও মিডল অর্ডারে ম্যাথুস যেকোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
বিপরীতে আমির শাহি দলে রয়েছেন রোহান মুস্তাফা। দলের নবাগত তারকাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। লঙ্কানদের বিরুদ্ধে তিনি হয়তো একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সহায়তা করবেন। তিনি ছাড়াও আমিরাতের হয়ে জ্বলে উঠতে পারেন জহির মাকসুদ ও সাইমান আনোয়ার। আমিরাতের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিক তিনিই।
সম্ভাব্য শ্রীলঙ্কা দল: তিলেকারত্নে দিলশান, লাসিথ মালিঙ্গা (অধিনায়ক), দিনেশ চান্দিমাল, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ধানুশ সানাকা, থিসারা পেরেরা, সুচিত্রা সেনানায়েক, নিরোসান দিখুয়েলা, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে, চামারা কাপুগেদারা, ও দাশমাথ চামিরা।
সম্ভাব্য আরব আমিরাত দল: রোহান মুস্তাফা, মুহাম্মদ কালিম, মোহাম্মদ শাহজাদ, সাইমান আনোয়ার, মুহাম্মদ উসমান, আমজাদ জাভেদ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাভেদ, সাকলাইন হাইদার, আহমেদ রেজা, এসপি পাতিল ও কাদের আহমেদ।







