প্রত্যাশাটা সবসময়ই আকাশচুম্বী। পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেটা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। সঙ্গী ছিল নিজেদের ঊর্ধ্বগামী সাফল্যের গ্রাফটা। তাতে সিরিজের শেষভাগে এসে একেবারে মন্দ মনে হবে না বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। একটি করে টেস্ট-ওয়ানডে জিতে ওই দুই সিরিজে ড্র করা গেছে। এবার মারকুটে টি-টুয়েন্টির পালা। তাতে লঙ্কানদের জন্য অপয়া হয়ে থাকা ভেন্যুতে নামার আগে তাদেরই বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি সঙ্গী হচ্ছে টাইগারদের।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টুয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সাফল্য এক কথায় অসাধারণ। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এসেছে লঙ্কানরা। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের শেষ চারটিতে জয়, সেখানে বাংলাদেশের টানা পাঁচ ম্যাচে হারের স্মৃতি সঙ্গী হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নামার সময়।
এরপরও শ্রীলঙ্কাকে নামতে হচ্ছে অপয়া তকমা পাওয়া ভেন্যুতে। নিজেদের হোম অব ক্রিকেট আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শেষ ছয় ম্যাচে টানা হারার স্মৃতি আছে তাদের। কলম্বোর এই মাঠে টি-টুয়েন্টিতে পথ হারানো স্বাগতিকদের যেন নিত্য হয়ে উঠেছে। ২০০৯ থেকে খেলা শুরু করে প্রেমাদাসার ১১ ম্যাচের ১০টিতেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা।
লঙ্কানদের দুঃস্বপ্নের মাঠে নামার আগে টাইগারদের তো টেস্ট-ওয়ানডে সিরিজ ড্র করার স্মৃতি সঙ্গী হচ্ছেই, আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিচ্ছে দুদলের সবশেষ মুখোমুখি হওয়ার সুখস্মৃতিও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টুয়েন্টিতে জয়ের স্মৃতি আছে বাংলাদেশের। এ পর্যন্ত লঙ্কানদের বিপক্ষে পাঁচটি ছোট ফরম্যাটের ম্যাচ খেলে যদিও চারটিতেই হার। জয় আবার ওই শেষটিতে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টিতে এই শ্রীলঙ্কাকে ছিটকে দিয়েই ফাইনালে পা রেখেছিল লাল-সবুজরা। তিনে নেমে ৮০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেছিলেন সাব্বির রহমান। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাব্বিরের দিকে নজর থাকবেই। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনবার এই ফরম্যাটে ম্যাচ সেরা হওয়ার কীর্তিটিও তার।

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত করতে থাকা তামিম ইকবাল, তার উদ্বোধনী সঙ্গী হয়ে ছন্দে থাকা সৌম্য সরকারও আলো ছড়াতে পারেন। ফর্মে থাকা মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান ভূমিকা রাখবেন দুভাবে। ব্যাটের পাশাপাশি একজন গ্লাভসে স্বরূপে ফেরায় নিশ্চিন্ত টাইগাররা, অন্যজন বল হাতে জ্বলতে থাকায়। তামিম (১২০২) ও সাকিব (১১৫৯) আবার দুদলের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে টি-টুয়েন্টিতে হাজার রান করা দুজনমাত্র।
মাহমুদউল্লাহ টেস্টের একাদশে জায়গা হারানোর পর ওয়ানডেতে সামান্য সুযোগেই ঝাল মেটানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাট হাতে দেওয়ার থাকবে এই অভিজ্ঞেরও। মোসাদ্দেক হোসেন থাকছেন, সঙ্গে অভিষেক হয়ে যেতে পারে অলরাউন্ডিংয়ে আস্থা অর্জন করা মেহেদী হাসান মিরাজের। মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সেখানে পেস আক্রমণ সাজাতে পারে বাংলাদেশ। অথবা খেলিয়ে দিতে পারে নতুন মুখ পেস-অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকেও।
মাশরাফি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন একটি স্পেল বা ইনিংস পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুদলের। অধিনায়কের চাওয়াটা মেটাতে এগিয়ে আসতে হবে সতীর্থদের। সেজন্য জোড় পরিকল্পনাও সাজাচ্ছেন মাশরাফিরা। রোববার বিশ্রামে ছিল টাইগার শিবির। এর ফাঁকেই প্রায় আড়াই ঘণ্টার লম্বা টিম মিটিংয়ে কষা হয়েছেন টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়ের ছক। সোমবার অবশ্য ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন সেরেছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা দারুণ সিরিয়াস। তারা জানে এই বাংলাদেশকে এশিয়ার মাটিতে হারাতে হলে সেরার ওপরের সেরাটা দিতে হবে! অভিজ্ঞ লাসিথ মালিঙ্গা ও থিসারা পেরেরাকে স্কোয়াডে ফিরিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সাফল্যের কারিগর অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ না থাকলেও অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা, ধানুস্কা গুনাথিলাকা, কুশল পেরেরা, আসেলা গুনারত্নে, সেক্কুগে প্রসান্নারা আছেন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার মত।

নিজেদের অপয়া ভেন্যুতে তাদের সঙ্গী হবে ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে ৬৪ রানে, ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে ১৭ রানে আর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে শেষ বলে হারিয়ে তোলা দুটিসহ মোট চার জয়ের স্মৃতি। আর সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস।
পরিসংখ্যান বলছে প্রেমাদাসায় শুরুতে সাফল্য পায় পেসাররা। শেষ পাঁচ টি-টুয়েন্টিতে এখানে গড় সংগ্রহ ছিল ইনিংসে ১৫০ রানের। শুরুতে ব্যাট করা দল এই মাঠে ১৪টি ম্যাচে জিতেছে, যেখানে খেলা হয়েছে ২৩টি টি-টুয়েন্টি। মঙ্গলবারের সন্ধ্যায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকছে সব আয়োজন ভেস্তে দিতে।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার টি-টুয়েন্টি সিরিজ তাই জমে ওঠার আভাস আছে সবদিক থেকেই। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দারুণ কিছু করে স্মৃতিময় এক সফর শেষ করার সুযোগ বাংলাদেশের। টিম হোটেল তাজ সমুদ্রে সেটা বাস্তবে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন-ছক এঁকেই নতুন ভোর আসুক টাইগারদের শিবিরে, সন্ধ্যে পেরিয়ে যেতে যেতে সেই ভোরের আভাই রাঙিয়ে দিক লাল-সবুজের এই প্রান্তর।








