উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়া ভারত টানা দুই ম্যাচ জিতে নিধাস ট্রফির ফাইনালের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেল। বৃষ্টিস্নাত মঙ্গলবারে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে তারা ৯ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে হারিয়েছে।
তিন ম্যাচ শেষে দুই জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের বাকি আছে একটি ম্যাচ। এই ম্যাচটি ভারত হারলে আর শ্রীলঙ্কা তাদের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতলে, তবেই কেবল ফাইনালের সমীকরণ কঠিন হয়ে যাবে। তখন তিন দলের পয়েন্ট হবে চার করে। রানরেটের হিসাবে ফাইনাল নিশ্চিত হবে শীর্ষ দুই দলের।
এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১৬ মার্চ। তার আগে ১৪ মার্চ গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারত খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে এদিন টস করতে দেরি হয়। কার্টেল ওভারে ম্যাচ নেমে আসে ১৯ ওভারে। ভারত টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। দলটি ৯ উইকেটে ১৫২ রান তোলে। দিনেশ কার্তিক এবং মনিষ পাণ্ডের ঠাণ্ডা মেজাজের ব্যাটিংয়ে ভারত জয় পায় ১৭.৩ ওভারে।
তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে শারদুল ঠাকুর উইকেটের দেখা পান। আট বলে ১৭ রান করা গুনাথিলাকাকে রায়নার ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান। পরের ওভারে ফেরেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা কুশল পেরেরা। ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে বোল্ড হন। বাংলাদেশ, ভারতের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচে অর্ধশতক করা ব্যাটসম্যান এদিন চার বলে করতে পারেন তিন।
শুরুর এই ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন উপুল থারাঙ্গা এবং কুশল মেন্ডিস। দুজনে ৬২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভেঙে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন বিজয় শঙ্কর। ২৪ বলে ২২ রান করা থারাঙ্গাকে বোল্ড করেন তিনি। কুশল মেন্ডিস ৩৮ বলে তিন চার, তিন ছক্কায় ৫৫ করে বিদায় নেন।
এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক থিসারা পেরেরা দলের স্কোর বড় করতে গিয়ে দ্রুত ফিরে যান। ঠাকুরের বলে চাহালের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ছয় বলে দুই ছক্কায় ১৫ করেন।
এরপর আর কোনো জুটি সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। দাসুন শানাকা এবং আকিলা ধনঞ্জয়া ২৬ রানের ছোট একটা জুটি গড়ে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন। শানাকা ১৬ বলে এক চার, এক ছয়ে ১৯ রান করেন। ধনঞ্জয়া ১১ বলে করেন পাঁচ।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলতে নামা পেসার শারদুল ঠাকুর ২৭ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। এদিন তিনি ম্যাচসেরা হয়েছেন। আগের চার ম্যাচে তার উইকেট ছিল তিনটি। ওয়াশিংটন সুন্দর ২১ রান দিয়ে ফেরান দুইজনকে।
জবাব দিতে নেমে ভারতও শুরুতে হোঁচট খায়। রোহিত শর্মা এদিনও সেই অল্পতে ফেরেন। ধনঞ্জয়ার বলে মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। সাত বলে এক চার, এক ছয়ে ১১ করেন। দ্বিতীয় ওভারে ভারতীয় অধিনায়ক ফেরার পর চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন শেখর ধাওয়ান। তাকেও ফেরান অফব্রেক বোলার ধনঞ্জয়া। ইনফর্ম ধাওয়ান ১০ বলে আট করে পেরেরার হাতে ক্যাচ দেন।
এরপর লোকেশ রাহুলকে নিয়ে সুরেশ রায়না ৪০ রানের জুটি গড়েন। সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে বিদায় নেন সুরেশ রায়না। ১৫ বলে দুই চার, দুই ছয়ে ২৭ করেন তিনি। নুয়ান প্রদীপের বলে পেরেরার হাতে ক্যাচ দেন । লোকেশ রাহুল ফেরেন দশম ওভারের পঞ্চম বলে। মেন্ডিসের বলে হিট-উইকেট হন। তিনি করতে পারেন ১৭ বলে ১৮।
এরপর মনিষ পাণ্ডেকে নিয়ে দিনেশ কার্তিক ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। তারা ৬৮ রানের জুটি গড়েন। কার্তিক ২৫ কলে পাঁচ চারে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাণ্ডে ৩১ বলে তিন চার, এক ছয়ে করেন ৪২।
ধনঞ্জয়া ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। বাকি দুটি উইকেট নুয়ান প্রদীপ এবং জীবন মেন্ডিসের।







