সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জানা গেছে, অ্যালকোহলের প্রভাবে বাথটাবে পড়ে মারা গেছেন বলিউডের নায়িকা শ্রীদেবী। এর আগ পর্যন্ত বলা হচ্ছিল তাঁর মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। বাথটাবে ডুবে মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা, শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের গন্ধও পাচ্ছেন অনেকে।
কিন্তু, বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি ভারতীয় উপমহাদেশ সুপরিচিত না হলেও, এমন দুর্ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জাপানের মতো দেশে। ভারতে শুধু পা পিছলে বাথরুমে পড়ে হাত-পা ভাঙা পর্যন্তই দুর্ঘটনা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার স্বীকার বেশি হন নারীরাই।
জাপানের এক জরিপে দেখা যায়, গত দশ বছরে বাথটাবে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে সত্তর শতাংশ, এবং এমন ঘটনায় দশ জনের মধ্যে নয়জনই ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক। ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানি ব্যবহার এর অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হয়। জাপানের বাথটাবের গভীরতাও অনেক বেশি থাকে।
২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিদিন কমপক্ষে একজন লোক বাথটাবে, হট টাবে কিংবা স্পা করতে গিয়ে। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা থাকে মদ্যপ অথবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়।
২০১৫ সালের এক প্রতিবেদনে আসে ১৫ বছরের বেশি বয়সী দুই লাখেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে আসে বাথরুমে পড়ে আঘাত পেয়ে, এর মধ্যে ১৪ শতাংশকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গোসলের সময় বা অন্যসময় আঘাতপ্রাপ্তরা নারী হন। তার কারণ, নারীদের শরীরের নিচের অংশের শক্তি কম থাকে, হাড়ের উপর বেশি ভার দিতে পারেন না। তবে, ভারতে এ ধরনের কোন ঘটনায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত মৃত্যুর কোন রেকর্ড নেই।
শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে অনেকেই এক বাক্যে বলে দিচ্ছেন বাথটাবে মৃত্যু সম্ভব না। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের হিসাবগুলো থেকে অ্যালকোহলের প্রভাবে বাথটাবে ডুবে মারা যাওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।







