পরিবহন শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোয় হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, এসব দাবি অনুযায়ী আইনে কোথাও অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতামুলক পক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটননে (ডিএমপি) চলবে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবহন চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে একটা জটিলতা ছিল। সেটি নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে আলোচনা হয়েছে। তাদের দেওয়া দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য চালকদের একটা সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা তাদের লাইসেন্স ঠিক করে নেবে।
আইন না মানা আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: কেউ আইন মানতে চায় না। যদি সবাই আইন মেনে চলে তবে কোনও সমস্যা থাকে না। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, সকল পর্যায় সবাই আইন মেনে চললে অপরাধ অনেক কমবে। সকল পর্যায়ে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি চালু হোক এটাই আমার চাওয়া।
‘‘মহাসড়কে যারা বাস-ট্রাক চালায়, তাদের দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালাতে হয়। তাই তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের প্রয়োজন। একটা চালক ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর তাকে বাধ্যতামুলক বিশ্রাম নিতে হবে। মহসড়কে বিভিন্ন জায়গাতে চালকদের বিশ্রামের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’’
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের কেউ যদি সড়কে আইন প্রয়োগ করে তবে এর জন্য কোনও কর্মকর্তা বদলি হবেন না। এটা আমি আশ্বস্ত করছি। তবে সবার ব্যবহার বিনয়ী হতে হবে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রধানত ‘ট্রিপল ই’ বিবেচনায় রাখা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, এনফোর্সমেন্ট। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছাড়াও কয়েকটি সংস্থা কাজ করে (যেমন, সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, বিআরটিএ)। এর মধ্যে পুলিশ শুধু এনফোর্সমেন্ট দেখে। কিন্তু সড়কে কোনো সমস্যা হলেই সবাই ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করেন। একটা সিটির রাস্তা থাকা প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এটা আদর্শ একটি সিটির তিন ভাগের এক ভাগ থেকেও কম। তবুও এটুকু সড়ক ব্যবহার করা হয় না।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সড়কে সব স্থানে বাস বে না থাকলেও বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কিন্তু চালকরা সেটা না মেনে বাসস্টপের আগে পরে থামে। এতে পথচারী ও যাত্রঅমীর সমস্যা হয়। এর জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।
‘‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি সভ্য জাতির প্রতীক শ্লোগান নিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ শুরু করেছি।’’
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে যদি চালক পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে তবে আমাদের মামলা করার কোনও প্রয়োজন নেই। যারা রাস্তায় সবাই আগে যেতে চায়। এই পাল্লাপাল্লির কারণে দুর্ঘটনায় ঘটে। তাই আইন মেনে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলে কোনো বিপদ আসবে না।
‘‘নতুন আইনে কোনো চালককে একবার জরিমানা করলে তার সারা মাসের উপার্জন শেষ হয়ে যাবে। তাই আমরাও তাদেরকে জরিমানা করছি, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়কে আইন ভঙ্গ করছে।’’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, একটি মহল নিরীহ পরিবহন শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পেঁয়াজ-লবণের পর গুজব পরিবহন সেক্টরে ভর করেছে। দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে তারা।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীও বলেছেন, নতুন আইনে কোনও সংশোধনী থাকলে তা দেখা হবে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত যার যে লাইসেন্স আছে তাই দিয়ে যানবাহন চালানো যাবে। তবে অবৈধ কোনও লাইসেন্স পেলে কাউকে ছাড়া দেয়া হবে না।









