চট্টগ্রাম থেকে: ১৩০ রানের পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়াই জমিয়েছিল খুলনা টাইগার্স। তবে শেষটায় এসে হতাশায় ডুবল তারা। আমাদ বাট ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের খরুচে ওভারে হারের বৃত্তেই বন্দী থাকল তামিম ইকবালের দল। শোয়েব মালিকের ৪৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে রংপুর রাইডার্স জয় পেয়েছে ৪ উইকেটে।
শেষ ৩ ওভারে ৩৫ রানের সমীকরণ রংপুর মেলায় ৩ বল হাতে রেখে। আমাদ বাটের করা ১৮তম ওভারে টানা তিন চার মারেন শামীম পাটোয়ারি। আসে ১৪ রান। পরের ওভারে সাইফউদ্দিনও দেন ১৪ রান। তবে ফেরান মালিককে। ওয়াহাব রিয়াজ শেষ ওভারে যখন বোলিংয়ে আসেন তখন জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় রংপুরের।
প্রথম বল ডট করলেও পরেরটিতে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে ছক্কা আদায় করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তৃতীয় বলে সিঞ্চেলস নিয়ে মাতেন জয়ের উদযাপনে। বিপিএলে তিন ম্যাচে এটি রংপুরের দ্বিতীয় জয়।
ওরমজাই ৪ বলে ৮ ও শামীম ১০ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শোয়েব ৩৬ বলে দুটি ছয় ও তিনটি চারে ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন। দলটির নিয়মিত ওপেনার নাঈম শেখকে নামানো হয় চার নম্বরে। খেলেন ২২ বলে ২১ রানের ইনিংস।
নাসুম আহমেদ, সাইফউদ্দিন ও ওয়াহাব নেন দুটি করে উইকেট।
চট্টগ্রামে এসেও ভাগ্য ফিরল না খুলনার। আশা জাগিয়েও হারল তারা। তিন ম্যাচ খেললেও এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি ইয়াসির আলীর নেতৃত্বে খেলা দলটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুলনা টাইগার্স শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। চতুর্থ উইকেটে আজম খান ও ইয়াসির আলী রাব্বি গড়েন প্রতিরোধ। এরপর আবারো ব্যাটিং অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ১৯.৪ ওভারে ১৩০ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
শুক্রবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাতের ম্যাচে দ্বিতীয় ওভারেই তামিম ইকবালের উইকেট হারায় খুলনা। এ বাঁহাতি ওপেনার এক রান করে আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন।
এরপর ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হন ১২ রান করা শারজিল খান। খানিকপর রাকিবুল হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া খুলনার স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১৮ রান।
চতুর্থ উইকেটে আজম খানের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামালের চেষ্টা করেন অধিনায়ক ইয়াসির আলী রাব্বি। এরপর আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়। ৩ উইকেটে ৭৬ থেকে খুলনার স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৯১ রান।
আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকা আজম ২৩ বলে ৪টি ৪ ও এক ছক্কায় খেলেন ৩৪ রানের ইনিংস। ইয়াসির ২২ বলে ২ ছক্কায় করেন ২৫ রান।
অষ্টম উইকেটে মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন এবং নাহিদুল ইসলাম ৩২ রানের জুটি গড়েন। পেসার হাসান মাহমুদের বলে ১৫ রান করা নাহিদুলের স্টাম্প ভাঙলে জুটির অবসান হয়।
১৮ বলে ২ চারে ২২ রান করা সাইফউদ্দিনকে সাজঘরে পাঠিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন রবিউল হক। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাসুম আহমেদ আউট হলে দুই বল আগেই ১৩০ রানে থামে খুলনার ইনিংস।
রংপুরের পেসার রবিউল ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে পান ৪ উইকেট। রাকিবুল ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় নেন দুটি উইকেট। হাসান ৩.৪ ওভারে ২২ রান খরচায় দখল করেন ২ উইকেট। ওমরজাই ২ উইকেট পেলেও খরচ করেন ৪১ রান।








