শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও ন্যায় বিচার পেয়ে তাদের মনস্ত্বাত্তিক বিজয় হয়েছে। তবে তারা বলেছেন, শেষ রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীর বিচারের পরই বলা যাবে ‘রাজাকারমুক্ত দেশ’, এর আগে পর্যন্ত বিচার চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সবাই।
একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর এ দেশীয় দোসর: রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নির্যাতন চালায়, তার বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার দেশের মানুষ। তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল ও সর্বোচ্চ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষে শীর্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন: দেশকে রাজারকার মুক্ত করতে হলে আরও সময় লাগবে। আশার কথা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছেন-একজন যুদ্ধাপরাধী বেঁচে থাকা পর্যন্ত এ বিচারকাজ চলবে। আমি মনেকরি যে এ বিচারকাজটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ বলেন, তাদের বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে একটা অধ্যায় শেষ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ আসলে রাজাকার মুক্ত হয়নি।

বিচারের এ পর্যায়ে সন্তুষ্টির জায়গা কতটুকু, সে বিষয়েও কথা বলেন তারা। তুরিন আফরোজ মনে করছেন এর মধ্যদিয়ে আমাদের একটা মনস্ত্বাত্তিক বিজয় হয়েছে।
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলছেন, প্রিয়জনকে হারানোর পর যখন আমরা ন্যায় বিচার পেলাম না, তখন আমরা দুঃখিত ছিলাম। কিন্তু যখন আমরা ন্যায় বিচার পেলাম আমরা স্বস্তি পেলাম।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতে, দেশেকে কখন রাজাকারমুক্ত বলা যাবে, তা নির্ভর করবে তদন্ত সংস্থার উপর।

তিনি বলেন: রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস্ এসব নাম ব্যবহার করে কিন্তু এসব অপরাধ সংগঠিত করেছে।
সেজন্য সবকিছু নির্ভর করছে-তদন্তকারী সংস্থা তদন্তকাজ শেষ করে যদি সত্যিকার অর্থে সাক্ষী-সাবদ থাকে। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হচ্ছে। যখন তদন্তকারী সংস্থা বলবে আমাদের কাজ শেষ হয়েছে। সে অবস্থা যদি আসে তাহলে বলা যেতে পারে।
তবে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এমনভাবে বিচার শেষ করতে হবে যাতে রাজাকাররা কখনও এ দেশের শাসন ক্ষমতায় যেতে না পারে।







