এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের ১৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এখনো গণফোরামের সাথে কয়েকটি আসন নিয়ে শেষ মুহূর্তেও দর কষাকষি চলছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ১১টি আসন ছেড়েছে বিএনপি।
এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বশেষ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডিকে ৫টি, গণফোরামকে ৫টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ৩টি, নাগরিক ঐক্যকে ৫টি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে একটি আসন ছেড়েছে।
জোটের যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন
জেএসডি:
আসম আবদুর রব (লক্ষীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮), সাইফুল ইসলাম, (কিশোরগঞ্জ-৩), নুরুল ইসলাম (শরিয়তপুর-১)।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ:
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী ( টাঙ্গাইল-৮) ও টাঙ্গাইল-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ইকবাল সিদ্দিকী।
গণফোরাম:
মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭), এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসা আমিন (কুড়িগ্রাম-২)
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া: সুলতান মো. মনুসর আহমেদ (মৌলভীবাজার-২)
নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এসএম আকবর (নারায়নগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১) মোফাখারুল ইসলাম (রংপুর-৫), নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)
২০ দলীয় জোট:
২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিজেপি একটি, খেলাফত মজলিশ দুইটি, এলডিপি পাঁচটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুইটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তিনটি, এনপিপি একটি ও পিপিবিকে একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
তবে জামায়াতসহ ২০ দলকে কতটি আসন ছাড়ছে এ বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে এখন কথা বলবেন না বলে জানান।
তিনি বলেন, আসন ভাগাভাগির আলোচনা চলছে, শেষ না হলে বলাটা ঠিক হবে না।
বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।
এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
পিপিবি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান।
কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম- ৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।
এলডিপি: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম–৭ আসনে মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষীপুর-১ আসনে সাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।
খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়নগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মুনির হোসেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।
জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।
এছাড়া জামায়াত ইসলামীর আসনের বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই বলা হচ্ছে না। তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে তারা ২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
জামায়াত ইসলামী: ঢাকা-১৫ আসনের ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, চট্টগ্রাম- আসনে শামসুল ইসলাম, কক্সাবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেট-৫ আসনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে হাবিবুর রহমান, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী।
মনোনয়নের পূর্ণাঙ্গ তালিকা রোববার নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
এছাড়া বাগেরহাট, পাবনা ও যশোরের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি।
২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। শুধুমাত্র এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ নিজ দলের ‘ছাতা’ প্রতীকে ভোট করবেন।
সর্বশেষ গত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৫৯টি আসনে এককভাবে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়ে দিয়েছিলো।







