টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ঢাকা কলেজের আবাসিক হলপাড়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিটি আবাসিক হলের সামনের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের অধিকাংশ অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের চলাচল, খাবার সংগ্রহ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে কর্মচারীদের কোয়ার্টার ও খাবারের হোটেলেও পানি ঢুকে পড়েছে।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, মসজিদসংলগ্ন নিচু এলাকা, নায়েমের গলি থেকে বকুল চত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। প্রায় প্রতিটি আবাসিক হলের সামনেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে হাঁটাচলা করতে শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
আবাসিক হলগুলোর পেছনে বসবাসকারী ঢাকা কলেজের কর্মচারীদের বাসাবাড়িতেও জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসের পেছনের কর্মচারী কোয়ার্টারের কয়েকটি কক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। অনেককে প্লেট, বালতি ও অন্যান্য পাত্র দিয়ে ঘরের পানি সেচে বাইরে ফেলতে দেখা যায়।
আবাসিক হলপাড়ার দুটি খাবারের হোটেলেও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করেই সেখানে খাবার খেতে যাচ্ছেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন, অন্যদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষও ব্যবসা পরিচালনায় বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন।
আবাসিক শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, টানা বৃষ্টির পর হলপাড়ায় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ডাস্টবিনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ও পানি প্রবাহের পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না এবং পুরো এলাকায় পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল, খাবার সংগ্রহসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি স্থায়ী সমাধানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান।
আরেক শিক্ষার্থী শাহেদ আহমেদ বলেন, ডাস্টবিনের নোংরা পানি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি কলেজ প্রশাসনের নজরে রয়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ড্রেনের ঢাকনা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মচারীদের দুর্ভোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তারা ঢাকা কলেজ পরিবারেরই অংশ। কারও বাসায় পানি ঢুকে বসবাসের অনুপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কলেজের জিমনেসিয়ামে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।







