শেরপুরের নকলায় আমন কাটার পর পতিত জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। বোরোর মাঝামাঝি সময়ে সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষীরা। সেই সাথে মৌ চাষের দিকেও ঝুঁকছে চাষিরা।
চাষিরা জানায়, আমন কাটার পর তাদের বেশিরভাগ জমি পতিত পড়ে থাকে। আমন ও বোরোর মাঝামাঝি সময়ে মাত্র ৮০ দিনে বারী ১৪ জাতের সরিষা আবাদ করছে। এ সরিষা খুব অল্প দিনে ঘরে তোলা যায়। এ সরিষা বিক্রির টাকা দিয়েই তারা বোরো চাষের খরচ তুলছেন।
স্থানীয় এক চাষি জানায়, বারী ১৪ জাতের সরিষা আবাদ করার পর আর একটা ফসল ধরা যায়, ফলে এই সরিষা চাষ আমাদের জন্য লাভজনক হচ্ছে।
আর এক সরিষা চাষি জানায়, ৭ হাজার টাকা একটি জমিতে খরচ করলে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়।
সরিষা চাষের সময় মৌ চাষের মাধ্যমে পরাগায়নের ফলে সরিষার দানা পুষ্ট হয়। এক ভ্রাম্যম্যান মৌ চাষি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এই চাষ একটা অপার সম্ভাবনাময় শিল্প। এটা দিয়ে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এর ফলে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শেরপুর জেলায় এবার সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। শেরপুর নকলার কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, সরিষার জমিতে মৌবন স্থাপন করতে পারলে পরাগায়ণে সহায়তা করবে। এর ফলে, সরিষা জমিতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ফলন বাড়বে।
তিনি আরো জানান, এর ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এটা একটি পরিবেশবান্ধব উপায়।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. আবদুস সালাম বলেন, সরিষা চাষিরা যদি সরিষার সাথে সাথে এই মধু চাষের ব্যবস্থা করে তবে তা একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে থাকবে।
নকলার ধামনা এলাকায় ৫৬টি মৌ বাস্কো বসিয়ে প্রতিটি বাস্কো থেকে সপ্তাহে দুই-তিন কেজি করে মধু আহরণ করা হচ্ছে। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে পাঁচশ টাকায়।







