শেখ হাসিনার রেফারিতে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান টুকুসহ নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠনের মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়, কিন্তু শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে নয়। শেখ হাসিনা রেফারি থাকলে কি ধরণের নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনসহ বিগত দিনের নির্বাচনগুলো দেখলেই বুঝা যায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করলে দেশে সৃষ্ট রুদ্ধদার পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দায়ী থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুঁশিয়ার করে দুদু বলেন, ‘নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা যেমন গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনিভাবে আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ভারত ও ভুটানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান না। দেশের চলমান গণতন্ত্রের সংকট সমাধানে অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসুন। অন্যথায় বিএনপি কর্মসূচি দিলে দেশে কি ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে তা আপনি ভাল করেই জানেন?’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু এবং বিরোধীদলকে নির্বাচনে আনার জন্য সকল বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়েছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রত্যাহার করেছিল পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। যার ফলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন। একইভাবে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে আনতে হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ সকল বিরোধী নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী হাওর অঞ্চলে যাবেন। বিরোধীদলের চাপে হোক আর যে কারণেই হোক তিনি সেখানে যাচ্ছেন, এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈশার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতউল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, আমিনুল ইসলাম, প্রমুখ।







