দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ছবি শোভা পাচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক উভয়ের পাশেই। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। এবার মুরাদের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী সামিনা সুলতানার বিরুদ্ধে তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকটাই জয় করে নিলেন। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের উপনির্বাচনটি হয়ে উঠছে আজ ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ২০১৬ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের মামলা হয়েছিল এই আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, আবুল কালাম আজাদ কি পরাজয়ের শোধ তুলতেই নৌকায় এলেন? আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ বলছেন আবুল কালাম আজাদ ২ বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এ যোগদানের খবর এতদিন পরে প্রকাশ পেল কেন? আর বিএনপি এতদিন পর তাকে দল হতে বহিষ্কার করল কেন? মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই এ উপনির্বাচন। তবে কি তিনি জীবিত থাকতেই তার পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী তার দল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন?
সংবাদ পত্রের পাতায় পাতায় পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে আবুল কালাম আজাদ ও ধানের শীষ ও আবুল কালাম আজাদ ও নৌকা সম্বলিত পোষ্টার। শিরোনাম হয়েছে: বিএনপির সহসভাপতি থেকেই নৌকার মনোনয়ন পেলেন আজাদ/ধানের শীষের কাণ্ডারি এখন নৌকার মাঝি/ধানে ভারী হচ্ছে নৌকা প্রভৃতি/নৌকায় পাল তুলেছেন ধানের শীষের আজাদ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম লিখেছেন, দলের উন্নয়ন সাফল্য: বাংলাদেশে এখন সবাই আওয়ামী লীগ/ভালো/খুব ভালো/এভাবেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ/শুভ কামনা না বললে অনেকেই মন খারাপ করবেন/ মিডিয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে চলছে ব্যাপক লেখালেখি। কেউ এ মনোনয়ন বাতিলের জন্য খোলা চিঠিও পর্যন্ত দিয়েছেন। কেউ দলীয় প্রতীক নৌকায় ভোট চাইছেন। কেউ আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রয়াত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের স্ত্রী সামিনা সুলতানার পক্ষে ঘোড়া মার্কায় ভোট চাইছেন। এ উপনির্বাচনে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ পেয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক। বিএনপি এখানে কোন দলীয় প্রার্থী দেয়নি। কেন? তবে কি তারা ভেতরে ভেতরে আবুল কালাম আজাদ কে জিতিয়ে বিগত পরাজয়ের শোধ তুলতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগকে দিয়েই জিতিয়ে? বিগত ইউপি নির্বাচনে এবারের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদই গাদাগাদা অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আরও ছিল নির্বাচনী প্রচারে বাধা দানের অভিযোগ। তিনি দলটির বিরুদ্ধে জবরদস্তি, হয়রানি ও মিথ্যে মামলার অভিযোগও করেছেন। আজকে আওয়ামী লীগ কি তার অভিযোগ মেনে নিয়েছেন? নাকি আবুল কালাম আজাদ তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন? নাকি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠেছেন? বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থিতা না দেয়ায় এমন প্রশ্নটাই কি সঙ্গত হয়ে উঠছে না?
দলীয় মনোনয়ন ইউনিয়ন, উপজেলা কমিটির মতামতের মধ্য দিয়েই কেন্দ্রীয় অনুমোদনে চূড়ান্ত হয়ে থাকে। ইউনিয়ন ও উপজেলা প্রস্তাব পাঠাতেই পারে। কিন্তু কেন্দ্র অনুমোদনের আগে কি তা যাচাই বাছাই করবেনা? দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কি জানতেন না রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে উপনির্বাচনটি হচ্ছে? যে মানুষটি আমৃত্যু আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য থেকেছেন। একই ইউনিয়নে দুইবার চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছেন তার জনপ্রিয়তা নেই তা কি বলা যায়? তার অসমাপ্ত মেয়াদ কালে তারই শোকাহত বিধবা স্ত্রী সামিনা সুলতানা কে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে দিলে এমন কি ক্ষতি হত দলের? নাকি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের স্ত্রী সামিনা সুলতানা কে নৌকা দিলে আবুল কালাম আজাদ ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এই ভয় ছিল? বিএনপি কি সেজন্যই তাকে নৌকা চূড়ান্ত হওয়ার পর তাকে দল হতে বহিষ্কার করেছে?
জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাকে নৌকা দিয়ে কেন সংবাদ শিরোনাম হল দলটি? এ উপনির্বাচনে নৌকা হেরে গেলেও সরকারের কি আসে যাবে তাতে? সামিনা সুলতানাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে যদি আবুল কালাম আজাদ ধানের শীষ নিয়ে জিতে যায়? এই আশঙ্কাতেই কি কালামকে নৌকা দেয়া হল? আওয়ামী লীগের স্থানীয় উপজেলা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এক ছাত্রলীগ নেতার সাথে বিতর্কে লিখেছেন: আজীবন তো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসাবে নৌকাতেই আছি। আপনারা ছাত্র রাজনীতি করেন। ভবিষ্যতে হয়তো বড় নেতা হবেন।সামান্য একটা নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নৌকার বিপক্ষে অপপ্রচারে নামলেন? তেঁতুলিয়া নির্বাচন আওয়ামী লীগের দলীয় কৌশল। আবুল কালাম আজাদ সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। মুরাদের অবর্তমানে তাকে দিয়েই আগামী সময়ে রাজনীতির হাল ধরানো সম্ভব। সেই চিন্তা থেকেই তাকে থানা আওয়ামী লীগের সভার সিদ্ধান্ত ক্রমে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ‘এর জবাবে ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখার আলম চৌধুরী শুভ বলেছেন, তাহলে বাবরের বৌরে নৌকা আইনা দেন। আওয়ামী লীগের কোন প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকবো না। এত গ্রহণযোগ্য হলে তাকে ছেড়ে দেন না মাঠে। আপনাদের এত হামধাম করতে হয় কেন? আর আপার দোহাই দিবেন না। আপাকে কি বলেছিলেন আপনারা যে কৌশলের জন্য বিএনপি নেতাকে নৌকা দিয়েছেন? ‘এখানে উল্লেখ্য লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপি নেতা ও চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নেত্রকোনা: ৪ আসনে বাবরের স্ত্রী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন বলে শোনা যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভয়ে বাবরের স্ত্রীকেও কি নৌকা প্রতীক দিয়ে বিএনপি হতে আওয়ামী লীগে নিয়ে নিতে পারবে নীতিনির্ধারক গণ ও তৃণমূল? প্রসঙ্গক্রমেই এ প্রশ্নটি অনেকের মনেই।
হাটে মাঠে ঘাটে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বত্রই আলোচিত ও সমালোচিত তেঁতুলিয়া ইউপি নির্বাচন। বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় টিকেটে নৌকা নিয়ে গেল। আবার বিএনপি এ উপনির্বাচন বর্জন করল? তাদের এ বর্জন কি নীতিগত না প্রার্থী সংকটের কারণে? আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ইউনিয়নের উপনির্বাচনকে ঘিরে সরকার দল আওয়ামী লীগ কেন এই বিতর্কের জন্ম দিল? কোন দলের সভাপতি বিদেশ সফর করলেও তার মতের ভিত্তিতেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বিদেশ যাত্রাকারীর মতামতকেই মূল্যায়িত হতে দেখা যায়। রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ বিদেশ যাত্রা করেন নি দুনিয়া ত্যাগ করেছেন। বিদেশ যাত্রা সাময়িক বিচ্ছেদের। তখন বিদেশ যাত্রী নিজে অথবা তার স্বজনরা শোকাহত হয়না। এতে করে কেউ স্বামীহারা বিধবা হয় না, স্ত্রী হারা বিপত্নীক হয় না। বাবাহারা এতিম হয় না। কিন্তু কারও দুনিয়া ত্যাগে এসবকিছুই হয়ে থাকে। শোকার্ত হয় গোটা পরিবার,স্বজন,আপনজন ও পরিচিত জনদের পরিমন্ডল।
রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ মারা যাওয়ার পরপরই তাকে ও তার পরিবারকে সবাই ভুলে গেল কেন? কেন তার রাজনৈতিক ও দলীয় স্মৃতি মূল্যায়িত হলো না? কেন তার শোকার্ত বিধবা স্ত্রীকে আরও অধিকতর শোকগ্রস্থ করতে তার স্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বীকে স্বামীর অর্জিত প্রতীক তুলে দেয়া হল? দল বদলের ব্যাপারেও দলীয় গঠন তন্ত্রেই নির্দেশনা থাকে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলেরই আবুল কালাম ইস্যুর গঠনতান্ত্রিক মূল্যায়ন আবশ্যক। গঠন তন্ত্রে অবশ্যই থাকার কথা সদস্যপদ অন্তর্ভুক্তি ও তার যোগ্যতা। তবে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন নতুন সংযোজন। গঠন তন্ত্রে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে কি?
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মানুষ বিগত নির্বাচনে মুরাদকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিল আবুল কালাম আজাদকে নয়। এর শোধ তুলতেই কি আবুল কালাম আজাদ জনরায়ে প্রাপ্ত মুরাদের চলমান মেয়াদেই চেয়ারম্যানের চেয়ার দখল করতে চাইছেন? নিকট অতীতে যে ইউনিয়নের সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদের মনোনয়ন ও নির্বাচনের পক্ষে থেকেছেন তার মৃত্যুর পরপরই সবাই কেন তার বিরুদ্ধে গিয়ে একেবারে বিএনপি নেতার পক্ষে চলে গেল? কী এমন ঘটেছিল তেঁতুলিয়ায়? ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলা পাড় হয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা মূল্যায়িত হলোনা হল বিএনপির নেতা!!! আবুল কালাম আজাদের কাছে এমন কি যাদু? স্থানীয় আওয়ামী লীগ কি ভুল করল? সে ভুলের ধারাবাহিকতা কেন্দ্রও রাখল? জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরুও এটাকে ভুল হিসাবে আখ্যায়িত করলেন। তবে এটা কি ইচ্ছাকৃত ভুল না অনিচ্ছাকৃত? আবুল কালাম আজাদ ছাড়া অন্য কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিলে কি এমন বিতর্কের সৃষ্টি হত? কেন জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি ইউনিয়নের উপনির্বাচন দিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করল ও বিএনপি হতে অনুপ্রবেশকে দৃশ্যমান করল? অথচ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তো নিষেধাজ্ঞা ছিল বিএনপি হতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের। কেন এ নিষেধ মানা হলো না? মোহনগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও গণভিত্তিও দুর্বল নয়। ৭ টি ইউনিয়নেই বিগত দিনে নৌকার প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। পৌরসভাতেও নৌকার মেয়র প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কি তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিল? তাদের এ শঙ্কাও অমূলক নয়। বিগত দিনে দেখা গেছে তেঁতুলিয়ার মানুষ দলীয় আনুগত্যের চেয়ে গ্রামগত আনুগত্যকেই মূল্যায়ন করেছে বেশী। তাই তারা হয়তো ভেবেছে আবুল কালাম দলীয় ও গ্রামগত টানে জিতে যেতে পারেন।এ আশঙ্কাতেই হয়তো তারা আবুল কালামকে দলে নিয়ে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। ব্যাপারটা তাই নয় কি?
আবুল কালাম আজাদের মনোনয়ন যেহেতু স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কর্তৃক চূড়ান্ত ও ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন তাই এখন হয়তো আর মনোনয়ন বাতিলের সুযোগ নেই। কী ভাবছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ? তবে বিষয়টাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই নিজ নিজ গঠন তন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নে বিগত ইউপি নির্বাচনে মার্কাকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। কাউকেই দলীয় প্রতীক দেয়া হয়নি। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নেও এমনটি করলে কি আজকের এই বিতর্ক হত? প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হয়না। ৫ জানুয়ারির ১৫৪ জন এমপির বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাওয়ার অনেক সমালোচনা রয়েছে। আবুল কালাম আজাদ দলীয় প্রতীক পেল।কিন্তু সামিনা সুলতানা যদি ঘোড়া মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে না দাঁড়াতো তাহলে কি এ ইউপি নির্বাচন অর্থবহ হত? বিএনপি কি তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের উপনির্বাচনকে গুরুত্বহীন করতেই নির্বাচন বর্জন করেনি? নাকি আবুল কালাম আজাদ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলেরই প্রার্থী? একটি গোপনে আরেকটি প্রকাশ্যে? আর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ কেন আবুল কালাম আজাদ সম্পর্কে কোন তথ্য ও তত্ত্ব পেলেন না? এখানে কি তার কোন বিশ্বস্ত, দলানুগত ও আদর্শিক ধারার কোন প্রতিনিধি নেই? আর মাত্র এক সপ্তাহ পরে নির্বাচন। এই অল্প সময়ে উদ্ভূত সমালোচনা ও বিতর্ক এড়াতে কি ভূমিকা নিচ্ছে দলটি? ২৯ মার্চের নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দেয়া যায় না? ইতোমধ্যেই সংবাদ পত্রে শিরোনাম হয়েছে, মোহন গঞ্জে ভোটারদের উপর হামলার অভিযোগ।এসব ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কিশোরগঞ্জের দুইটি ইউনিয়নকে উদাহরণ হিসাবে নিতে পারতো আজকের এই আলোচিত ইউনিয়নটি। তা যেহেতু হয়ে ওঠেনি দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার, প্রচারণাকেই নির্বিঘ্ন করা হোক। শান্তিপূর্ণ মানুষ কোনপ্রকার সংঘাত চায় না। ২৯ মার্চে জনগণের অবাধে ভোটদানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। ভয়,ভীতি, হামলা ও হুমকি নিষিদ্ধ হোক।ভোটারদের তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোটদানের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হোক।এব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের কী ভূমিকা তা সময়ের বাস্তবতাই দৃশ্যমান করবে।অপেক্ষা মাত্র আর কয়দিন!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







