প্রথম টি-টুয়েন্টিতে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘূরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সাইফ-তানজিদের জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়ে টিম টাইগার্স। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে নৈপুণ্যে দেখিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল লাল-সবুজ দল। তাতে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ পরিণত হয়েছে ফাইনালে।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শুক্রবার টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান তুলেছে টিম টাইগার্স। জবাবে ১৯.৪ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৫২ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিক দল। তাতে ৩৪ রানের জয় পায় তাওহীদ হৃদয়ের দল।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। শুরুর দুই বলে চার ও ছক্কা খেলেও মেহেদী হাসানের করা ওভারের শেষ বলে তাদিওয়ানাশে মারুমানি ফেরেন হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে। পরের ওভারে নাহিদ রানার গতিতে বোল্ড হন ব্রায়ান বেনেট। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ডিওন মেয়ার্সকে বোল্ড করে আরও চাপে ফেলে দেন মেহেদি।
চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু একাদশে ফেরা রিশাদ হোসেন নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ১২ বলে ২৮ রান করা রাজাকে। এক ওভার পর মিল্টন শুম্বাকেও সাজঘরের পথ দেখান এই লেগ স্পিনার। ৬৮ রানেই পঞ্চম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
ইনিংসের দশম ওভারে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন শেখ মেহেদি। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ক্লাইভ মাডান্ডে। চার বলে মাত্র এক রান করে ফেরেন তিনি।এরপর ব্রাড ইভান্স লড়াই করলেও সেটা শুধু ব্যবধান কমিয়েছে। ১৪ বলে জোড়া চার ও ছক্কায় ২৫ রান করেন তিনি।
৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বোলিং করেন রিশাদ। শেখ মেহেদী নেন ৩ উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সাইফ হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের পথে দেখান। সাইফ ৪৫ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫৫ রান করে সিকান্দার রাজার শিকার হন। তানজিদ ৪৪ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন ৫৮ রানের কার্যকর ইনিংস।
দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ৫ বলে ৬, পারভেজ হোসেন ইমন ২ বলে ১ এবং নুরুল হাসান ২ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
শেষদিকে ঝড় তোলেন ইয়াসির আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ইয়াসির ১২ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ২২ রান করেন। সাইফউদ্দিন মাত্র ১০ বলে এক ওভারে টানা মারা ৪ ছক্কায় বিধ্বংসী অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংস খেলেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।









