প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ আত্মহত্যার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর এলাকার সংসদ সদস্য ও সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোহাম্মেল হক এবং শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশ্য তিনি এ নির্দেশনা দেন। যা আজ সকল গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটা নির্বাচন বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করবে। অবৈধ ক্ষমতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী আইনকানুন মানতে রাজি নন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মোড়লগিরি বেশি করছেন। তার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ আত্মহত্যার শামিল।
এসময় মাদক নির্মূলের নামে সারা দেশে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কৃত্যে পরিণত হয়েছে। যা মানবাধিকারের পরিপন্থি, আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। মানবাধিকারের এ রক্তাক্ত মূর্তিতে দেশবাসীর মধ্যে ভয়ে শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। বেআইনীভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারো নেই। গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে অপরাধ দমন সম্ভব নয়। আমরা মাদক নির্মূলের পক্ষে আছি। কিন্তু অপরাধীদের ধরে বিচারের আওতায় আনা হোক। তাদের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আসলে মাদক নির্মূলের নামে বিচারবর্হিভূত হত্যার যে হিড়িক চলছে এর গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মাদকবিরোধীদের নির্মূল করতে গিয়ে টার্গেট করে বিরোধী দলের তরুণ নেতাকর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মেরে ফেলা। গতরাতে নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
গতরাতে সেহেরির কিছুক্ষণ আগে নিঁখোজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশের তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা জানান রিজভী।








