মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজে নাহিদ রানার গতির তোপে পড়েছিল পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ডানহাতি এই পেসান ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের বিধ্বস্ত করে জয়ের নায়ক বনে যান। এবার সেই মিরপুরেই টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে আগুন ঝরানো বোলিংয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান। তার ৫ ফাইফারে ১০৪ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। টাইগার পেসারে মুগ্ধ নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে, পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের কাছে যেন হতাশার বড় কারণ নাহিদ।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্তর কণ্ঠে ঝরেছে নাহিদ রানাকে নিয়ে মুগ্ধতা। অপরদিকে, শান মাসুদের কণ্ঠে ছিল যেন একরাশ হতাশার মেঘ। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৫২ রান। নাহিদেন আগুনঝরা বোলিংয়ে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
নাহিদের করা সেই দুর্দান্ত স্পেল নিয়ে শান্ত বলেন, ‘রানার কথা আমরা জানি যে ও কত স্পেশাল এবং কত জোরে বল করে। ওটা অনেক উপভোগ করেছি এবং প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লেগেছে। ও যেভাবে দলের জন্য অবদান রেখেছে তাতে আমি খুবই খুশি। আমাদের ইচ্ছা থাকবে ও যেন নিয়মিত এভাবে দলের জন্য অবদান রাখে।’
প্রথম ইনিংসে শাহিন আফ্রিদির বাউন্সার নাহিদের মাথায় লেগেছিল। এরপর ব্যাটে নেমে টাইগার পেসারের মুখোমুখি হতে চাননি শাহিন। দ্বিতীয় ইনিংসে দেরি করে নেমেও নাহিদের শিকার হন। মাথায় আঘাতের পর নাহিদ বদলা নেবে- এমন কিছু কিনা, বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় শান্তর কাছে।শান্ত বলেন, ‘খেয়াল করার কিছু নাই, ওরাও জানে যে আসলে রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতে হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না কারণ আমার এত জোরে বাউন্সার খেলার শখ নেই।’
অবশ্য মাঠের এই লড়াইকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অধিনায়ক। তার ভাষ্যে, ‘এটা ভালো দিক যে আমরা এখন ওরকম বোলিং শক্তি রাখি যে জবাবটা দিতে পারি। দলের উন্নতি করার জন্য এই জিনিসগুলা গুরুত্বপূর্ণ।’
নাহিদকে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করেছেন মুশফিকুর রহিমও। শান্ত বলেন, ‘মুশফিক ভাইকেও ক্রেডিট দিতে হবে কারণ উনি রানার সাথে অনেক আলোচনা করছিলেন। মুশফিক ভাইয়ের মতো মানুষ মাঠে থাকলে ওই হেল্পটুকু পাওয়া যায়।’
রানার রিভার্সসুইংয়ে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। মূলত সোজার উপর বল আসতে দেখে ব্যাট উপরে তুলে বল ছেড়ে দেন তিনি। তবে বল সুইং করে তার স্টাম্পে আঘাত হানে। নাহিদের বলে রিভার্স সুইং দেখে অবাক হয়েছিলেন শান্ত ও লিটনও।
শান্ত বলেছেন, ‘রানার বল ওভাবে ভেতরে আসবে এটা আমি আর লিটন স্পেশালি পিছনে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলাম যে আমরা এটা আশা করিনি। এটা একটা ইতিবাচক দিক যে ও রিভার্স করাতে শিখছে।’
এর আগে নাহিদ রানার ভয়ংকর সেই স্পেল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সফরকারী দলের অধিনায়ক শান মাসুদ বলেন, ’দেখুন, ওর গুণাবলী তো অবশ্যই আছে। সে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভালো বল করেছে। তবে আমাদের জন্য এটা হতাশাজনক। কারণ আমি মনে করেছিলাম খেলার ওই পর্যায়ে, আমরা যে পরিস্থিতিতে ছিলাম, সেখানে যদি আমাদের দুইজন থিতু হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান আরও কিছুক্ষণ ব্যাট করতে পারতেন, তাহলে হয়তো আমরা ম্যাচটা ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারতাম।’







